
বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারিকরণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার তার পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল।
মঙ্গলবার ইসরায়েল ফিফা সভাপতির দায়িত্বে ইনফান্তিনোকে পুনর্নির্বাচনের সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়। আইএফএ সভাপতি মোশে জুয়ারেস ফিফার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইসরায়েল ১৯৯৪ সাল থেকে উয়েফার সদস্য। জুয়ারেস নিজেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। ফলে উয়েফার সঙ্গে ফিফার সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে তার নেতৃত্বাধীন সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি।
গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একসঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
সেখানেই থেমে থাকেননি ইনফান্তিনো। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার। জুনে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
আইএফএর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফা ও উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ তৈরি করেছে।
চিঠিতে মোশে জুয়ারেস দাবি করেন, দুই সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য এখন গভীর, মৌলিক ও নীতিগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইএফএর বোর্ড সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরই ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জুয়ারেস বলেন, ‘আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনা ফিরিয়ে আনবে।’
এর আগে উয়েফার সদস্য ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল।
তবে এখনো বেশ কিছু শক্তিশালী ফুটবল সংস্থার সমর্থন রয়েছে ইনফান্তিনোর পাশে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফসহ কয়েকটি দেশ তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার ভাষায়, ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবাও হবে মারাত্মক ভুল।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একের পর এক দেশের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘটনায় ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনা কতটা প্রভাবিত হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আরটিভি/এসকে




