
ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর পুরো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাই এই জয়কে আর্জেন্টিনার ম্যাচ জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রেভস্পোর্টজ’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি।
ফিল সিমন্স বলেন, আমরা বিষয়টিকে কিছুটা তুলনা করছিলাম যখন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতেছিল তখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে। কারণ বিশ্বকাপের সময় ঢাকার রাস্তাঘাট ছিল অবিশ্বাস্য। গতকাল আমরা কথা বলছিলাম যে এটি ঠিক তেমনই একটি অনুভূতি। মানুষের এই উদযাপন, বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে আসা বার্তাগুলো; সবকিছুই অন্যরকম।
বড় দল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার খুব একটা সুযোগ পায় না বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল টাইগাররা। সেবার মিরপুরে টেস্ট জিতে অজিদের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে লাল বলে জয়ের খরা কাটিয়েছিল বাংলাদেশ দল। তবে অপেক্ষা ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য বাংলাদেশ দলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অজিদের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে লিটন-শান্তরা। আর এই সুযোগেই বাজিমাত করেছে লাল-সবুজেদের প্রতিনিধিরা। স্বাগতিকদের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে শান্ত বাহিনী।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর পাওয়া শুভেচ্ছা বার্তাগুলো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে এই জয়ের গভীরতা ও মাহাত্ম্য স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন টাইগারদের এই প্রধান কোচ।
সিমন্স জানান, কেবল এশিয়ার কন্ডিশনেই নয়; অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেস ও বাউন্সনির্ভর পরিবেশেও ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য দেখাতে চায় বাংলাদেশ। এমনকি আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিং ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলার জন্য আলাদা কোনো প্রেরণার প্রয়োজন হয়নি বলেও মনে করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
সিমন্স বলেন, আমাদের আলাদা করে উজ্জীবিত করার মতো কিছু প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা, টেস্ট ক্রিকেট খেলা, এই বিষয়গুলোই এই দলকে উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। তারা চেয়েছিল সবাইকে দেখাতে যে আমরা একটি ভালো টেস্ট দল এবং ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারি।
‘আমি মনে করি সবচেয়ে বড় ব্যাপার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় সকালে চার-পাঁচটি উইকেট পাওয়ার পর আমরা সেটার প্রভাবেই থেকে যাই। কিন্তু এবার আমরা চেষ্টা করেছি যেন লাঞ্চ কিংবা চা বিরতিতে একই মানসিক অবস্থায় থাকতে পারি এবং বিরতির পরও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে মাঠে ফিরতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, উইকেট না পেলেও আবেগ যেন খুব বেশি নিচে নেমে না যায়, আবার উইকেট পেলেও যেন খুব বেশি ওপরে উঠে না যায়, এটা নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আরটিভি/এসআর




