
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস। একসময় ঝাঁকড়া চুলে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে শেন ওয়ার্ন কিংবা মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো বিশ্বসেরা বোলারদের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অপারেশন্স বিভাগের দায়িত্বের পাশাপাশি কোচিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত আছেন সাবেক এই ওপেনার।
এবার ভিন্ন পরিচয়ে সামনে এলেন নাফীস। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রকাশ করেছেন গবেষণাভিত্তিক বই ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’। বইটি যৌথভাবে লিখেছেন শাহরিয়ার নাফীস ও তার বন্ধু শিক্ষক আতিফ আকিফ।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই লেখকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নাফীসের শৈশবের কোচ ওয়াহিদুল গনি।
নাফীস জানান, বইটি তৈরির জন্য প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে দেশ-বিদেশের ক্রীড়াবিদ ও অ্যাথলেটদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। প্রায় ৩৫ জনের বেশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে সেগুলো বইয়ে গল্পের আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নাফীস বলেন, মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি, পড়াশোনা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।” কিন্তু সেই ধারণাটাকে একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরা। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।
তিনি বলেন, খেলাধুলা ও পড়াশোনাকে কীভাবে একই জায়গায় নিয়ে আসা যায়, সেই ভাবনা থেকেই বইটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর সেই ধারণার প্রতিফলনই ঘটেছে বইয়ের নামেও ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’।
বইটির আরেক লেখক আতিফ আকিফ বলেন, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
আতিফ বলেন, ‘আমরা চাই, অন্তত এই প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরতে। আমাদের প্রজন্মের যারা খেলাধুলার সঙ্গে আসছে, তারা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না যায়।’
২০২২ সালে বইটির পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল বলে জানান নাফীস। পরে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বইটিকে প্রকাশের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়।
নাফীস বলেন, ‘আমরা এই বইয়ের কাজ শুরু করেছিলাম ২০২২ সালে। ওই বছরই আমরা বইটি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পরিকল্পনা শুরু করি। এরপর বইটি মূলত একটি গবেষণাভিত্তিক বই।’
বইটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটার, ফুটবলার, কোচ ও বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের গল্প স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি এমন অনেকের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে, যারা একসময় সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ ছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাধুলায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি।
তবে খেলাধুলার ক্যারিয়ার সফল না হলেও তাদের জীবনে পড়াশোনা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সেই অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে বইটিতে।
নাফীস বলেন, ‘ঠিক তেমনি এমন কিছু মানুষের গল্পও আছে, যারা অনেক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বা ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাধুলায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারেননি। তবে তাদের জীবনে পড়াশোনা কতটা কাজে এসেছে, সেই বিষয়টি তারা সুন্দরভাবে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন।’
বইটির জন্য বাংলাদেশের ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন লেখকরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ অ্যালান ডোনাল্ড ও স্টুয়ার্ট ল। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন কোচ ও অ্যাথলেটের অভিজ্ঞতাও বইয়ে স্থান পেয়েছে।
নাফীস জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতাই বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খেলাধুলা ও শিক্ষার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই বরং দুটিকে সমন্বয় করেই একজন তরুণের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব। নতুন প্রজন্মের সামনে সেই বার্তাই তুলে ধরতে চান শাহরিয়ার নাফীস ও আতিফ আকিফ। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই তাদের গবেষণাভিত্তিক বই ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’।
আরটিভি/এসকে




