
হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে শোচনীয় হারের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথেই বড় ধরনের দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগাসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। তার আগে পাকিস্তান দলে যোগ দিচ্ছেন পাঁচ নতুন মুখ আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজউল্লাহ। এ ছাড়া সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে ডাকা হয়েছে। এই সাতজনের আন্তর্জাতিক টেস্ট অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে।
দলের বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সীমিত ওভারের প্রধান কোচ মাইক হেসনকে টেস্ট দলেরও প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে বোলিং কোচ অ্যাশলে নফও টেস্ট দলের কোচিং প্যানেলে যোগ দিয়েছেন।
দল থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটার হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ।
সিরিজের মাঝপথে এত বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে বেশ চমক তৈরি করেছে। বিশেষ করে হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া আলী উসমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭২ সালের পর হেডিংলিতে কোনো সফরকারী দলের স্পিনার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার প্রথম কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও ব্যাট হাতে রিজওয়ানের ফর্ম ছিল হতাশাজনক। লর্ডস টেস্টে তিনি করেছিলেন ৭ ও ১ রান। হেডিংলিতে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১২ ও ৪১ রান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তিন ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪১ রান।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাঁ পায়ের পেশিতে গ্রেড-ওয়ান চোট পাওয়ায় দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি ইমাম-উল-হক। এ কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগা লর্ডস টেস্টে খেলেননি। ব্যাটিংয়ে ফর্মের অবনতির কারণেই তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাইম আইয়ুবও চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের হয়ে আর খেলেননি। ফিটনেস সমস্যার কারণে কোনো সংস্করণেই তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর কেবল দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন।
নতুন মুখদের মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই স্পিন-সহায়ক উইকেটে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
পাকিস্তান দলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার বড় পরিবর্তন দেখা গেলেও সিরিজের মাঝপথে, বিশেষ করে সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়মরক্ষার ম্যাচের আগে এত বড় পরিসরে দল পুনর্গঠনের ঘটনা বিরল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টের আগে তাই নতুন চেহারার পাকিস্তান দল কেমন পারফর্ম করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তান স্কোয়াড:
বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাজ, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মোহাম্মদ গাজী ঘোরী (উইকেটকিপার), রাজউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটকিপার), সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শাফিক ও উবাইদ শাহ।
আরটিভি/এসকে




