
টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সংগঠিতভাবে টিকিট কেনাবেচা ও আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে টিকিট ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্লাবটি ৬৮৫টি সিজন টিকিট বাতিল করেছে।
মৌসুম শুরুর আগে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছিল ইউনাইটেড। সেই তদন্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে ক্লাব জানিয়েছে, ৬৮৫টি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪৬৪ জন সমর্থককে তুলনামূলক কম শাস্তি অথবা চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইউনাইটেডের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংগঠিত টিকিট কালোবাজারির কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব চক্র শত শত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টিকিট নিয়ন্ত্রণ, বিক্রি ও বিতরণ করত।
ক্লাবের ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সমর্থকদের টিকিট পাওয়ার ন্যায্য সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই টিকিট ব্যবস্থার এমন ‘গুরুতর অপব্যবহারের’ বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বাতিল হওয়া সিজন টিকিটগুলো এবার অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রকৃত সমর্থকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইউনাইটেড। ক্লাব জানিয়েছে, এর মাধ্যমে টিকিটগুলো আবারও নিয়মিত সমর্থকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তদন্তে আরও ১ হাজার ৬১৭টি অ্যাকাউন্টকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক কার্যক্রম’ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাব।
তবে ইউনাইটেডের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে। সমর্থকগোষ্ঠী ‘দ্য ১৯৫৮’ চলতি সপ্তাহে সমর্থকদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বির আগে সিজন টিকিট নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে তারা। তাদের দাবি, এবার ক্লাব ‘সীমা অতিক্রম করেছে’।
এদিকে, যাদের সিজন টিকিট বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১৩ জন ক্লাবের তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেননি। আরও ৭৩ জন কোনো আপিল করেননি। আর ৪৯৯ জনের ক্ষেত্রে স্বাধীন আপিল বোর্ড নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
টিকিট কালোবাজারি বন্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই অভিযান ভবিষ্যতে ক্লাবের টিকিট ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আরটিভি/এসকে




