
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান মামলায় শেষ মুহূর্তে এসে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ম্যারাডোনার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সান ইসিদ্রোর আদালতে চলা মামলায় শেষ সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ফেরারি জানান, ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় তার শরীরে কোভিড-১৯-এর উপস্থিতি যাচাই করতে কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসে নিজ বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে সাবডিউরাল হেমাটোমার অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি।
ম্যারাডোনার মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এরই মধ্যে মামলায় ৭৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আদালতে ফেরারি বলেন, মহামারির সময় ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত করা হলেও কোভিড পরীক্ষা না হওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করা করোনাভাইরাস দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যু ঘটতে পারে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের আইনজীবীদের অবস্থানকে নতুন করে জোরালো করেছে। ম্যারাডোনার প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, তার ফুসফুসে হঠাৎ তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়েছিল। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত আটজনের বিচার যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরটিভি/এসকে




