
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থক ব্রাজিলের। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির খেলা দেখতে মুখিয়ে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রীতি ম্যাচ খেলে থাকে ব্রাজিল। তবে এর পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক হিসাব, স্পন্সরশিপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ডের বিস্তারের কৌশল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে ব্রাজিল। ম্যাচটির মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে খেলার তালিকায় যুক্ত হয় কলকাতার নাম। দেশের বাইরে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলা ব্রাজিলের জন্য নতুন কিছু নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি দলটির নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়েছে।
গত এক দশকে দেশের বাইরে ৪৩টি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। বিপরীতে নিজেদের মাটিতে খেলেছে মাত্র চারটি ম্যাচ। ২০১৭ সাল থেকে ব্রাজিলের মোট প্রীতি ম্যাচের ৯১.৫ শতাংশই অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের বাইরে। বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর মধ্যে বিদেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে সবার ওপরে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ তালিকায় ব্রাজিলের পরেই রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। ২০১৭ সাল থেকে উরুগুয়ে তাদের ৮৫.৭ শতাংশ প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দেশের বাইরে। আর আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এই হার ৮০.৫ শতাংশ। ব্রাজিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বোলাভিআইপি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।
ইউরোপের বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর চিত্র অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। ২০১৭ সাল থেকে ইতালি তাদের ৬৫.২ শতাংশ প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দেশের বাইরে। স্পেনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ, জার্মানির ৩৪.২ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডের ২৫ শতাংশ। তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে ফ্রান্স, যাদের মাত্র ১৭.২ শতাংশ প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের বাইরে।
কেন বিদেশের মাটিতে বেশি খেলে ব্রাজিল?
এর প্রধান কারণ অর্থনীতি। ব্রাজিলের মতো জনপ্রিয় দলের খেলা দেখতে ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এসব অঞ্চলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব, বাণিজ্যিক চুক্তি ও স্পন্সরশিপ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের সুযোগ থাকে। ফলে বিদেশের বিভিন্ন শহরে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজন করতে আগ্রহী থাকে আয়োজক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলের ফুটবল ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এবং নতুন দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বিদেশ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজন স্থানীয় সমর্থকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক অংশীদারদের জন্যও বাড়তি সুযোগ তৈরি করে।
অন্যদিকে ইউরোপের জাতীয় দলগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সূচি বড় একটি বিষয়। উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতার ব্যস্ত সূচির কারণে ইউরোপের দলগুলো তুলনামূলকভাবে কম প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে ব্রাজিলের মতো ঘন ঘন বিদেশ সফরের প্রবণতা তাদের মধ্যে ততটা দেখা যায় না।
বিদেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলার হার
২০১৭ সাল থেকে বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর দেশের বাইরে প্রীতি ম্যাচ খেলার শতকরা হার—
ব্রাজিল-৯১.৫%
উরুগুয়ে-৮৫.৭%
আর্জেন্টিনা-৮০.৫%
ইতালি-৬৫.২%
স্পেন-৩৬%
জার্মানি-৩৪.২%
ইংল্যান্ড-২৫%
ফ্রান্স-১৭.২%
বিদেশ সফরের এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনেও বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রাজিলের। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতেও দেশের বাইরে খেলবে দলটি। সূচি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে ১৪ নভেম্বর জাপানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ব্রাজিলের। এর তিন দিন পর স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের বিদেশ সফর কেবল মাঠের ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাণিজ্যিক স্বার্থ, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কৌশল।
আরটিভি/এসকে


