
অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। তাদের দাবি, তড়িঘড়ি করে প্রণীত এই আইনটি কার্যকর হলে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমার বদলে উল্টো আরও বেড়ে যাবে।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কিশোর-কিশোরীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন-আউট হয়ে যাওয়ার ফলে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা দৃঢ় ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়বে। এতে অভিভাবকেরা আর সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন না এবং কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল ব্লক বা কনটেন্ট সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও হারাবেন।
যদিও শিশুরা অ্যাকাউন্ট ছাড়াই ভিডিও দেখতে পারবে, কিন্তু তাদের জন্য আগে থেকে চালু থাকা ‘বিরতি নেওয়া’ বা ‘ঘুমানোর সময়’ নির্ধারণের মতো সুস্থতা নিশ্চিতকারী ফিচারগুলো আর কাজ করবে না।
গুগল ও ইউটিউব অস্ট্রেলিয়ার জননীতি বিষয়ক সিনিয়র ম্যানেজার র্যাচেল লর্ড এই আইনকে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের বাস্তব জটিলতা বুঝতে ব্যর্থ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, এটি অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের ইউটিউবে আরও বেশি অনিরাপদ করে তুলবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস ইউটিউবের এই যুক্তিকে ‘অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি মনে করেন, ইউটিউব যদি নিজেই স্বীকার করে যে তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ নয়, তবে সেই দায় ইউটিউবকেই নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জেনারেশন আলফা বা বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা স্মার্টফোন ও অ্যালগরিদমের কারণে এক ধরনের ‘আচরণগত কোকেনে’র নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা থেকে তাদের বাঁচাতে এই আইন জরুরি।
ইসেফটি কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য ইউটিউব ক্ষতিকর কনটেন্টের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এদিকে মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার খবরে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে লেমন ৮ বা ইয়োপ-এর মতো কম পরিচিত অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রকদের নতুন ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সসহ বড় বড় প্ল্যাটফর্মগুলো এই আইনের আওতায় থাকবে এবং শর্ত লঙ্ঘনে কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মুখে ইউটিউব জানিয়েছে তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তাদের উদ্বেগ বজায় থাকছে।
আরটিভি/এএইচ




