ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মহাকাশের গভীর থেকে আসা রহস্যময় নীল আলোর উৎস কী?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য রহস্য। আর সেই রহস্যের অন্যতম হলো মহাকাশের গভীর থেকে আসা অদ্ভুত নীল আলোর ঝলকানি। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই আলোর উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার টেলিস্কোপে ধরা পড়ে রহস্যময় এই নীল আলো। এরপর এখন পর্যন্ত একই ধরনের অন্তত ১৪টি তীব্র আলোর স্পন্দন শনাক্ত করা হলেও এর প্রকৃত উৎস নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট (এলএফবিওটি)। এসব আলোর ঝলকানি অত্যন্ত দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। এগুলোর উজ্জ্বলতা সাধারণ নক্ষত্রের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি হতে পারে। তাই মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই ঘটনাকে।

সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী মনে করছেন, একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে অত্যন্ত উত্তপ্ত নক্ষত্রের সংঘর্ষ থেকেই এই নীল আলোর উৎপত্তি হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, কোনো ঘন কৃষ্ণগহ্বর যখন একটি বিশাল ওলফ-রায়েট নক্ষত্রের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন সেটি দ্রুত নক্ষত্রের উপাদান গ্রাস করতে শুরু করে। এতে বিপুল পরিমাণ মহাকর্ষীয় শক্তি নির্গত হয় এবং তৈরি হয় শক্তিশালী জেট বা বহিঃপ্রবাহ। এই জেট আশপাশের উপাদানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে অল্প সময়ের জন্য অত্যন্ত উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত নীল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে।

হার্ভার্ড ও স্মিথসোনিয়ান গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী অ্যানিয়া নুজেন্ট বলেন, এই ঘটনা আগের যেকোনো পর্যবেক্ষণের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর মতে, এলএফবিওটির উৎপত্তির পেছনে অত্যন্ত বিরল ও সহিংস মহাজাগতিক প্রক্রিয়া কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যে গ্যালাক্সি থেকে এই নীল আলো এসেছে, সেগুলোর নক্ষত্র গঠনের হার, ভর এবং ধাতব উপাদানের পরিমাণ বিশ্লেষণ করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এলএফবিওটির সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ব্রায়ান মেটজার জানান, ওলফ-রায়েট নক্ষত্র এলএফবিওটি তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। কারণ এসব নক্ষত্র আগে থেকেই তাদের বাইরের হাইড্রোজেন স্তর হারিয়ে ফেলে। আর এলএফবিওটির আলোতেও হাইড্রোজেনের উপস্থিতি পাওয়া যায় না, যা এই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করছে।

আরও একটি বিষয় বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। সাধারণত এসব নীল আলোর ঝলকানি গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক দূরের নির্জন অঞ্চলে দেখা যায়। ২০২৩ সালে নাসা “দ্য ফিঞ্চ” নামে একটি নীল আলোর সন্ধান পায়, যা তার নিকটবর্তী সর্পিল গ্যালাক্সি থেকে প্রায় ৫০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছিল। আরেকটি এমন আলো গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এই আলো শুধুমাত্র নক্ষত্র বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্টি হতো, তাহলে তা গ্যালাক্সির ঘন কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে এসব ঘটনা ঘটছে গ্যালাক্সির একেবারে প্রান্তিক অঞ্চলে, যা রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

আরও পড়ুন

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপ ও নতুন পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশের এই রহস্যময় নীল আলোর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত এ সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে খিঁচুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালের কণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ও বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ রুমী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কুমার বিশ্বজিত রায়।
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
বাংলা ভাষায় মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬।
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
আরও পড়ুন
লংমার্চ ছেড়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
মানসিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে আলোচনা চলছে চীন-তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সেই মাসুদকে তালাক দিলেন ‘শ্যালিকা’ পূর্ণিমা 
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আন্তরিক নয়, পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান ইরানের