ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মহাকাশের গভীর থেকে আসা রহস্যময় নীল আলোর উৎস কী?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য রহস্য। আর সেই রহস্যের অন্যতম হলো মহাকাশের গভীর থেকে আসা অদ্ভুত নীল আলোর ঝলকানি। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই আলোর উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার টেলিস্কোপে ধরা পড়ে রহস্যময় এই নীল আলো। এরপর এখন পর্যন্ত একই ধরনের অন্তত ১৪টি তীব্র আলোর স্পন্দন শনাক্ত করা হলেও এর প্রকৃত উৎস নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট (এলএফবিওটি)। এসব আলোর ঝলকানি অত্যন্ত দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। এগুলোর উজ্জ্বলতা সাধারণ নক্ষত্রের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি হতে পারে। তাই মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই ঘটনাকে।

সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী মনে করছেন, একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে অত্যন্ত উত্তপ্ত নক্ষত্রের সংঘর্ষ থেকেই এই নীল আলোর উৎপত্তি হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, কোনো ঘন কৃষ্ণগহ্বর যখন একটি বিশাল ওলফ-রায়েট নক্ষত্রের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন সেটি দ্রুত নক্ষত্রের উপাদান গ্রাস করতে শুরু করে। এতে বিপুল পরিমাণ মহাকর্ষীয় শক্তি নির্গত হয় এবং তৈরি হয় শক্তিশালী জেট বা বহিঃপ্রবাহ। এই জেট আশপাশের উপাদানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে অল্প সময়ের জন্য অত্যন্ত উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত নীল আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে।

হার্ভার্ড ও স্মিথসোনিয়ান গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী অ্যানিয়া নুজেন্ট বলেন, এই ঘটনা আগের যেকোনো পর্যবেক্ষণের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর মতে, এলএফবিওটির উৎপত্তির পেছনে অত্যন্ত বিরল ও সহিংস মহাজাগতিক প্রক্রিয়া কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যে গ্যালাক্সি থেকে এই নীল আলো এসেছে, সেগুলোর নক্ষত্র গঠনের হার, ভর এবং ধাতব উপাদানের পরিমাণ বিশ্লেষণ করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এলএফবিওটির সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ব্রায়ান মেটজার জানান, ওলফ-রায়েট নক্ষত্র এলএফবিওটি তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। কারণ এসব নক্ষত্র আগে থেকেই তাদের বাইরের হাইড্রোজেন স্তর হারিয়ে ফেলে। আর এলএফবিওটির আলোতেও হাইড্রোজেনের উপস্থিতি পাওয়া যায় না, যা এই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করছে।

আরও একটি বিষয় বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। সাধারণত এসব নীল আলোর ঝলকানি গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক দূরের নির্জন অঞ্চলে দেখা যায়। ২০২৩ সালে নাসা “দ্য ফিঞ্চ” নামে একটি নীল আলোর সন্ধান পায়, যা তার নিকটবর্তী সর্পিল গ্যালাক্সি থেকে প্রায় ৫০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছিল। আরেকটি এমন আলো গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এই আলো শুধুমাত্র নক্ষত্র বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্টি হতো, তাহলে তা গ্যালাক্সির ঘন কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে এসব ঘটনা ঘটছে গ্যালাক্সির একেবারে প্রান্তিক অঞ্চলে, যা রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

আরও পড়ুন

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপ ও নতুন পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশের এই রহস্যময় নীল আলোর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআই কনটেন্ট শনাক্তের উদ্যোগ জোরদার করছে টিকটক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চেনা, বোঝা এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘টিকটক’।
এআই কনটেন্ট শনাক্তের উদ্যোগ জোরদার করছে টিকটক
স্টারলিংকের প্রথম মাসের ফ্রি মোবাইল সেবা, চালু করবেন যেভাবে
মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ দিতে আসছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক প্রযুক্তির এ সুবিধা দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ সেবার প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে বিনা মূল্যে স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। যেভাবে চালু করবেন সেবা এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। তবে শুধু ফোরজি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবাটি ব্যবহার করা যাবে না। এ জন্য ফোনের সামঞ্জস্য, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাটি নিজের নম্বরে চালু আছে কি না, তা জানতে বাংলালিংকের মাইবিএল (MyBL) অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে অপারেটরের গ্রাহকসেবায়। পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং ফোরজি সুবিধা সক্রিয় আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে? স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই। তবে ফোনটি এ প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। কখন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে ফোন? প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সুবিধাজনক। ভবন, পাহাড় বা অন্য কোনো বড় বাধা সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, ব্যবহারকারীর অবস্থান, স্যাটেলাইট কাভারেজ ও অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর সেবাটি নির্ভর করবে। প্রথম মাসে ফ্রি, এরপর কী? বাংলালিংকের ঘোষিত অফার অনুযায়ী, সেবা চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গেও এ সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন প্যাকে এ সুবিধা পাওয়া যাবে, অফারটি পেতে অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে কি না এবং সুবিধা গণনার তারিখ কী এসব তথ্য বাংলালিংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। স্যাটেলাইট সংযোগে কী করা যাবে? প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এ সেবার মূল উদ্দেশ্য। দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল কিংবা দুর্যোগের সময় প্রচলিত নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়লে এ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে। স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে মেসেজিং, অবস্থানভিত্তিক কিছু সুবিধা এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা অনলাইন সেবা এতে কাজ করবে না। প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির সংযোগও আশা করা ঠিক হবে না। ডিশ বা অ্যান্টেনা বসানোর প্রয়োজন নেই প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সঙ্গে ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসাতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ফলে বাড়ি বা অফিসে আলাদা ডিশ বসানোর প্রয়োজন হয় না। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং অপারেটরের সেবার আওতাভুক্ত হওয়া জরুরি। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা কি পাবেন? বাংলাদেশে সেবাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। অর্থাৎ, শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক এ সেবা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজন হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন, উপযুক্ত সিম এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা। সংযোগ না পেলে করণীয় ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি নম্বরে চালু আছে কি না, তা দেখতে হবে। এসব পরীক্ষা করার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ফোনের সামঞ্জস্য, নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ এবং অফারের শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই ভালো। আরটিভি/এসকে
স্টারলিংকের প্রথম মাসের ফ্রি মোবাইল সেবা, চালু করবেন যেভাবে
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে বিপাকে পড়তে পারেন পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীরা
নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। এ ফিচার চালু হলে পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্মার্টফোনে অ্যাপটিতে লগইন করতে সমস্যায় পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে বিপাকে পড়তে পারেন পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীরা
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাজ ও বিনোদন সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে এর ব্যবহার।
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
নিজের ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার তৈরি করবেন যেভাবে
বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন আরও মজার করে তুলতে ব্যবহার করা যায় নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় সহজেই পছন্দের ছবি থেকে স্টিকার তৈরি করে তা হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা সম্ভব।
নিজের ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার তৈরি করবেন যেভাবে
আরও পড়ুন
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম ’আরটিভি আলোকিত কোরআন ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন ইহতেশামুল
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা
জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
পাঠাগারে ‘জ্ঞানের আলো’, তরুণদের কাছে মোবাইলই ভালো!