ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজই চালু হয়েছিল বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) । ছবি: সংগৃহীত

আজ ৬ আগস্ট। প্রযুক্তির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটারবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট সবার জন্য উন্মুক্ত করেন। সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এ কর্মরত অবস্থায় তিনি নিজের উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ) সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রকাশ করেন বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট http://info.cern.ch।

১৯৫৫ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন টিম বার্নার্স-লি। তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন কম্পিউটারবিজ্ঞানী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি সার্নে যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে সেখানে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজারো গবেষকের প্রকল্প ও কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন।

এই সমস্যার সমাধানে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বার্নার্স-লি সার্নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন। এতে ইন্টারনেটে যুক্ত বিভিন্ন কম্পিউটারের নথি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হাইপারটেক্সট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রস্তাবটি প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন

পরে সার্নের প্রকৌশলী রবার্ট কাইলিয়াউ-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রস্তাবটি হালনাগাদ করে আবার জমা দেন তিনি। ১৯৯০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এর নাম ছিল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।

১৯৯০ সালের শেষ দিকে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস-এর নকশা করা নেক্সট কম্পিউটার ব্যবহার করে টিম বার্নার্স-লি ওয়েব পেজ তৈরির জন্য হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল এবং ওয়েব ঠিকানার ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল) তৈরি করেন। পাশাপাশি একটি ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যারও তৈরি করেন।

এরপর ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট। সাইটটিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী তথ্যজালের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন থেকে টিম বার্নার্স-লি কোনো অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেননি। এমনকি প্রযুক্তিটি পেটেন্ট করার জন্য সার্নের আহ্বানও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার বিশ্বাস ছিল, প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং উন্নত হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিটি যদি পেটেন্ট করা থাকত এবং তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে এটি কখনোই আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।

১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনস জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার মোসাইক প্রকাশ করে। এরপর একে একে যাত্রা শুরু করে ইয়াহু (১৯৯৪), অ্যামাজন (১৯৯৫), ইবে (১৯৯৫) এবং গুগল (১৯৯৮)। ইন্টারনেট লাইভ স্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ফেসবুক চালুর আগেই বিশ্বে ৫ কোটি ১০ লাখের বেশি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছিল।

১৯৯৪ সালে টিম বার্নার্স-লি সার্ন ছেড়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও ওয়েবের মানদণ্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রচারবিমুখ এই বিজ্ঞানী পরবর্তী সময়ে টাইম সাময়িকীর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে ২০০৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন।

সূত্র: হিস্টরি ডটকম

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআই কনটেন্ট শনাক্তের উদ্যোগ জোরদার করছে টিকটক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চেনা, বোঝা এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘টিকটক’।
এআই কনটেন্ট শনাক্তের উদ্যোগ জোরদার করছে টিকটক
স্টারলিংকের প্রথম মাসের ফ্রি মোবাইল সেবা, চালু করবেন যেভাবে
মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ দিতে আসছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক প্রযুক্তির এ সুবিধা দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ সেবার প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে বিনা মূল্যে স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। যেভাবে চালু করবেন সেবা এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। তবে শুধু ফোরজি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবাটি ব্যবহার করা যাবে না। এ জন্য ফোনের সামঞ্জস্য, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাটি নিজের নম্বরে চালু আছে কি না, তা জানতে বাংলালিংকের মাইবিএল (MyBL) অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে অপারেটরের গ্রাহকসেবায়। পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং ফোরজি সুবিধা সক্রিয় আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে? স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই। তবে ফোনটি এ প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। কখন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে ফোন? প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সুবিধাজনক। ভবন, পাহাড় বা অন্য কোনো বড় বাধা সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, ব্যবহারকারীর অবস্থান, স্যাটেলাইট কাভারেজ ও অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর সেবাটি নির্ভর করবে। প্রথম মাসে ফ্রি, এরপর কী? বাংলালিংকের ঘোষিত অফার অনুযায়ী, সেবা চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গেও এ সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন প্যাকে এ সুবিধা পাওয়া যাবে, অফারটি পেতে অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে কি না এবং সুবিধা গণনার তারিখ কী এসব তথ্য বাংলালিংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। স্যাটেলাইট সংযোগে কী করা যাবে? প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এ সেবার মূল উদ্দেশ্য। দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল কিংবা দুর্যোগের সময় প্রচলিত নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়লে এ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে। স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে মেসেজিং, অবস্থানভিত্তিক কিছু সুবিধা এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা অনলাইন সেবা এতে কাজ করবে না। প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির সংযোগও আশা করা ঠিক হবে না। ডিশ বা অ্যান্টেনা বসানোর প্রয়োজন নেই প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সঙ্গে ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসাতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ফলে বাড়ি বা অফিসে আলাদা ডিশ বসানোর প্রয়োজন হয় না। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং অপারেটরের সেবার আওতাভুক্ত হওয়া জরুরি। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা কি পাবেন? বাংলাদেশে সেবাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। অর্থাৎ, শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক এ সেবা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজন হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন, উপযুক্ত সিম এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা। সংযোগ না পেলে করণীয় ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি নম্বরে চালু আছে কি না, তা দেখতে হবে। এসব পরীক্ষা করার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ফোনের সামঞ্জস্য, নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ এবং অফারের শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই ভালো। আরটিভি/এসকে
স্টারলিংকের প্রথম মাসের ফ্রি মোবাইল সেবা, চালু করবেন যেভাবে
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে বিপাকে পড়তে পারেন পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীরা
নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। এ ফিচার চালু হলে পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্মার্টফোনে অ্যাপটিতে লগইন করতে সমস্যায় পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে বিপাকে পড়তে পারেন পুরোনো ফোনের ব্যবহারকারীরা
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাজ ও বিনোদন সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে এর ব্যবহার।
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
নিজের ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার তৈরি করবেন যেভাবে
বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন আরও মজার করে তুলতে ব্যবহার করা যায় নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় সহজেই পছন্দের ছবি থেকে স্টিকার তৈরি করে তা হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা সম্ভব।
নিজের ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার তৈরি করবেন যেভাবে
আরও পড়ুন
৪ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অটাম নাম লেখালেন গিনেসে
নতুন ওয়েবসাইট চালু করল বিএসইসি
দেশের সব স্কুল-কলেজের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা