ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ১১ তথ্য, যা অনেকেই জানেন না

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
উত্তর গোলার্ধের এক বিস্তৃত অঞ্চলে বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ছবি: সংগৃহীত

আকাশে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর বিশেষ অবস্থানে ঘটে যাওয়া সূর্যগ্রহণ স্রেফ মহাজাগতিক রূপসৌন্দর্য নয়, এটি বিজ্ঞানীদের কাছেও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বুধবার (১২ আগস্ট) উত্তর গোলার্ধের এক বিস্তৃত অঞ্চল থেকে বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করছেন বিশ্ববাসী। নাসার তথ্য ও বিবিসির পর্যালোচনার ভিত্তিতে সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত ১১টি অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য।

১. মহাজাগতিক আকারের অদ্ভুত মেলবন্ধন
সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বড় হলেও এটি পৃথিবী থেকে চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। এই বিশেষ দূরত্বের কারণেই পৃথিবী থেকে দুটিকে আকাশে প্রায় একই আকারের মনে হয় এবং চাঁদ সহজেই পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে।

২. গ্রহণের প্রধান চার রূপ
সূর্যগ্রহণ মূলত চার ধরনের হতে পারে: পূর্ণ, আংশিক, বলয়গ্রাস এবং হাইব্রিড। বলয়গ্রাস গ্রহণের সময় চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল অংশ রিং বা বলয়ের মতো দেখা যায়, যাকে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’।

৩. উন্মোচিত হয় রহস্যময় ‘করোনা’
সূর্যের সবচেয়ে বাইরের বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ‘করোনা’। স্বাভাবিক সময়ে সূর্যের অতিরিক্ত আলোর কারণে এটি দেখা যায় না। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় এটি দৃশ্যমান হয়, যা দেখতে সাদা আলোর মুকুটের মতো লাগে।

৪. পৃষ্ঠের চেয়ে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেশি
সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের (ফটোস্ফিয়ার) তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনার তাপমাত্রা প্রায় ২০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। কেন বায়ুমণ্ডল পৃষ্ঠের চেয়ে এত গরম, তা সৌরবিজ্ঞানের অন্যতম বড় রহস্য।

আরও পড়ুন

৫. তাৎক্ষণিক তাপমাত্রা পতন
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় যে পথ দিয়ে চাঁদের ছায়া যায়, সেখানে দিনের আলো দ্রুত কমে আসার পাশাপাশি তাপমাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

৬. প্রাণিজগতে বিভ্রান্তি
হঠাৎ আলো কমে দিন রাতের রূপ নেওয়ায় পশুপাখিরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পাখিরা সান্ধ্যকালীন ভেবে দ্রুত বাসায় ফিরতে শুরু করে এবং নিশাচর প্রাণীরা সময় হওয়ার আগেই বের হয়ে আসে।

৭. দিনের আকাশে নক্ষত্রের উদয়
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় অন্ধকারের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে সাধারণ সময়ে দিনের আলোয় না দেখা যাওয়া একাধিক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গ্রহ খালি চোখে দেখা যায়।

৮. স্থায়িত্বকাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত
একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি দেখা যায় না। যেমন আজকের ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ স্থানেই পূর্ণগ্রহণের স্থায়িত্ব দুই মিনিটেরও কম।

৯. বিরল নয়, তবে স্থানভেদে দুর্লভ
পৃথিবীতে প্রতিবছর সাধারণত দুই থেকে তিনটি সূর্যগ্রহণ ঘটে থাকে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীর একই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বারবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

১০. বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মূল হাতিয়ার
সূর্যগ্রহণ স্রেফ দেখার বিষয় নয়। শত বছর ধরে সূর্যগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা সূর্যের উপাদান, করোনা এবং সৌরবায়ুর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

১১. খালি চোখে দেখা চরম বিপজ্জনক
আংশিক বা পূর্ণ যেকোনো সূর্যগ্রহণের আলো চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস চোখে দিয়ে এটি দেখা নিরাপদ নয়; এর জন্য বিশেষ সোলার ফিল্টার বা সার্টিফাইড গ্রহণ দেখার চশমা ব্যবহার করা আবশ্যক।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার আসছে বিরল ‘ব্লাড মুন’
শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যেসব দেশ থেকে
শতাব্দীর সেরা সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো পৃথিবী
সূর্যগ্রহণ দেখতে শেষ মুহূর্তে চশমার জন্য হুড়োহুড়ি, দোকানে দীর্ঘ লাইন