ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বদলালো গুগল ফটোজে ছবি-ভিডিও সংরক্ষণের নিয়ম, সমস্যায় পড়তে পারেন যারা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কম্পিউটারে থাকা ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে গুগল। এতদিন গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটারের নির্দিষ্ট ফোল্ডারে থাকা ছবি ও ভিডিও সরাসরি গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা যেত। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকছে না।

ফলে এখন থেকে কম্পিউটার থেকে নতুন ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করতে হলে সরাসরি গুগল ফটোজের ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করতে হবে।

পুরোনো ছবি-ভিডিও কি মুছে যাবে?

গুগলের এই পরিবর্তনের কারণে আগে থেকে গুগল ফটোজে সংরক্ষিত কোনো ছবি বা ভিডিও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। আগের মতোই সেগুলো ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে থাকবে।

এমনকি গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে অতীতে গুগল ফটোজে আপলোড করা ছবি ও ভিডিওও মুছে যাবে না। অর্থাৎ, পরিবর্তনটি শুধু নতুন করে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কম্পিউটার থেকে যেভাবে ছবি-ভিডিও সংরক্ষণ করবেন

নতুন নিয়মে কম্পিউটার থেকে গুগল ফটোজে ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ করতে প্রথমে ওয়েব ব্রাউজার থেকে গুগল ফটোজে প্রবেশ করে নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করতে হবে।

এরপর ছবি যোগ করার অপশন থেকে ‘ফোল্ডার সংরক্ষণ’ নির্বাচন করতে হবে। কম্পিউটারে যে ফোল্ডারে ছবি বা ভিডিও রয়েছে, সেটি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিলেই ওই ফোল্ডারের ছবি ও ভিডিও গুগল ফটোজে সংরক্ষণ শুরু হবে।

অর্থাৎ, আগে গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের মাধ্যমে যে কাজটি করা যেত, এখন সেটি সরাসরি গুগল ফটোজের ওয়েব সংস্করণ থেকেই করতে হবে।

বেশি সমস্যায় পড়বেন কারা?

এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন তারা, যারা নিয়মিত কম্পিউটারে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করে সেগুলোর ব্যাকআপ গুগল ফটোজে রাখেন।

বিশেষ করে ক্যামেরা বা মুঠোফোন থেকে ছবি কম্পিউটারে নেওয়ার পর অনলাইনে ব্যাকআপ রাখা, পুরোনো ছবি-ভিডিওর বড় সংগ্রহ গুগল ফটোজে সংরক্ষণ করা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ফোল্ডারের ছবি নিয়মিত ব্যাকআপ করার ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতি আর ব্যবহার করা যাবে না।

গুগল ড্রাইভের ছবি কি হারাবে?

না। গুগল ড্রাইভে আগে থেকে থাকা কোনো ছবি বা ভিডিও মুছে যাবে না। একইভাবে গুগল ফটোজে সংরক্ষিত পুরোনো ছবি ও ভিডিওও নিরাপদ থাকবে।

শুধু গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করে কম্পিউটারের ছবি ও ভিডিও নতুন করে গুগল ফটোজে পাঠানোর সুবিধাটি বন্ধ করা হয়েছে।

ছবি রাখার আগে স্টোরেজ দেখে নিন

গুগল ফটোজে নতুন ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের আগে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত স্টোরেজ খালি আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ গুগল ফটোজে সংরক্ষিত ছবি ও ভিডিও গুগল অ্যাকাউন্টের নির্ধারিত স্টোরেজ ব্যবহার করে।

এই স্টোরেজ জিমেইল ও গুগল ড্রাইভের সঙ্গেও ভাগাভাগি হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণের আগে অ্যাকাউন্টে কতটা জায়গা খালি রয়েছে, তা যাচাই করে নেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে, গুগলের নতুন নিয়মে পুরোনো ছবি-ভিডিও হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই। তবে কম্পিউটার থেকে নিয়মিত গুগল ফটোজে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করেন এমন ব্যবহারকারীদের এখন থেকে গুগল ড্রাইভের ডেস্কটপ সংস্করণের পরিবর্তে সরাসরি গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।

সূত্র: গুগল ড্রাইভ হেল্প

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানুষের মতো কাজ করবে গুগলের নতুন ভার্সন জেমিনি এআই
কর্মক্ষেত্রের নানা কাজ সহজ করতে নতুন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী এনেছে গুগল।
মানুষের মতো কাজ করবে গুগলের নতুন ভার্সন জেমিনি এআই
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ম্যাজিক চার্জার’, স্মৃতিতে এক প্রজন্মের প্রযুক্তি-নস্টালজিয়া
একসময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে ফোনের প্রয়োজনই হতো না। ফোন থেকে ব্যাটারি খুলে আলাদা করে বসিয়ে দিতে হতো একটি বিশেষ চার্জারে।
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ম্যাজিক চার্জার’, স্মৃতিতে এক প্রজন্মের প্রযুক্তি-নস্টালজিয়া
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয় বিএস-১-কে। পরে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় শঙ্কা।
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
মানব সভ্যতার টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক পৃথিবীর ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে।
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবায় বড় পরিবর্তন আনছে গুগল। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরা শুধু জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেল ব্যবহার করতে পারবেন। গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ বা ডেস্কটপ সংস্করণে একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেবে জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট। জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইটকে তুলনামূলকভাবে কম খরচের মডেল হিসেবে বিবেচনা করে গুগল। এর চেয়ে বেশি সক্ষম ফ্ল্যাশ মডেল। আর জটিল কাজ ও উন্নত যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রো মডেল।  শুধু বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরাই নয়, পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে গুগলের এআই প্লাস গ্রাহকদের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলারের এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন। গুগলের দাবি, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত ও কোডিংয়ের কাজে বেশি সক্ষম। পাশাপাশি টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে এর বোঝার ক্ষমতাও অন্য মডেলের তুলনায় বেশি। ফলে কোডিং, পড়াশোনা কিংবা বিপুল পরিমাণ নথি বিশ্লেষণের কাজে জেমিনি ব্যবহারকারীদের আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে। গুগল এআই প্রোর মাসিক খরচ ২০ ডলার। আর আরও বেশি ব্যবহারের সীমা থাকা এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। এদিকে মডেল ব্যবহারে নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করছে গুগল। ব্যবহারকারীরা লো, মিডিয়াম ও হাই-এই তিনটি স্তর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। স্তর যত বাড়বে, মডেল তত বেশি বিশদ ও গভীরভাবে কাজ করবে। তবে বেশি এফোর্ট লেভেল ব্যবহারে নির্ধারিত ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হবে। এআই আল্ট্রা গ্রাহকদের জন্য থাকছে আরও উন্নত সুবিধা। তারা জেমিনির সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য ‘ডিপ থিংক’ অপশন পাবেন। এছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন উন্মুক্ত হলে এআই আল্ট্রা গ্রাহকরাও সেটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে মডেলটি শুধু গুগলের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর সরকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। জেমিনি ফ্ল্যাশ সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, লেখা তৈরি ও সম্পাদনা, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য সংক্ষেপ করা এবং সাধারণ কোড লেখা বা বিশ্লেষণের মতো কাজ করা যায়।  অন্যদিকে, জেমিনি প্রো তুলনামূলক জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী কাজের জন্য তৈরি। জটিল গণিত ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, কোডিং, বড় নথি বিশ্লেষণ এবং টেক্সট, ছবি, ফাইল ও ভিডিও থেকে তথ্য বিশ্লেষণে এটি বেশি সক্ষম। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বড় নথি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং পড়াশোনার সহায়তায় জেমিনি প্রো ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে, সফটওয়্যার নির্মাতারা কোড তৈরি, ভুল শনাক্ত ও কোড বিশ্লেষণের কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, দ্রুত উত্তর, সাধারণ লেখালেখি, অনুবাদ কিংবা দৈনন্দিন তথ্যভিত্তিক কাজের জন্য জেমিনি ফ্ল্যাশ বেশি উপযোগী। সূত্র: এনগ্যাজেট আরটিভি/এসআর
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
আরও পড়ুন
গুগল ফটোজে ছবি-ভিডিও রাখার নিয়ম বদল, বন্ধ পুরোনো সুবিধা