ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে ‘ম্যাজিক চার্জার’, স্মৃতিতে এক প্রজন্মের প্রযুক্তি-নস্টালজিয়া

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

একসময় মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ দিতে ফোনের প্রয়োজনই হতো না। ফোন থেকে ব্যাটারি খুলে আলাদা করে বসিয়ে দিতে হতো একটি বিশেষ চার্জারে। কারও কাছে এটি ‘অটো চার্জার’, আবার কারও কাছে পরিচিত ছিল ‘ম্যাজিক চার্জার’ নামে। স্মার্টফোন ও ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে সেই যন্ত্র এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

পুরোনো দিনের এই চার্জারে ব্যাটারি বসানো ছিল অনেকটা ছোটখাটো বিজ্ঞান পরীক্ষার মতো। ব্যাটারির দুই প্রান্ত চার্জারের পিনের সঙ্গে ঠিকভাবে মেলাতে হতো। সংযোগ ঠিক হলে জ্বলে উঠত লাল কিংবা সবুজ এলইডি। সেই আলো দেখেই নিশ্চিত হওয়া যেত, ব্যাটারি ঠিকভাবে চার্জ হচ্ছে।

এ ধরনের চার্জারে বিভিন্ন ধরনের রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো। একসময় নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) ও নিকেল-মেটাল হাইড্রাইড (Ni-MH) ব্যাটারির ব্যবহার বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চার্জ দেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে ব্যাটারিতে সঞ্চিত হতো। আর ফোন ব্যবহারের সময় সেই শক্তিই আবার বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপ নিয়ে ফোন চালাত।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে গেছে ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের ব্যবস্থাও। বর্তমানে স্মার্টফোনে সাধারণত বিল্ট-ইন লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। ইউএসবি-সি কেবল সংযুক্ত করলেই শুরু হয়ে যায় চার্জিং। ব্যাটারি খুলে আলাদা করে চার্জারে বসানোর প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি আধুনিক চার্জিং প্রযুক্তিতে ভোল্টেজ, কারেন্ট ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো নানা নিরাপত্তাব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে।

একসময় ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল নানা ছোটখাটো দুশ্চিন্তা চার্জার ঠিক আছে কি না, ব্যাটারির পিন ঠিকমতো মিলেছে কি না, এলইডি জ্বলছে কি না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফোনে ব্যাটারি লাগিয়ে চালু করার সেই অভিজ্ঞতাও ছিল আলাদা।

আজকের দিনে কয়েক মিনিটেই ফোনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি যত আধুনিক হয়েছে, ততই হারিয়ে গেছে পুরোনো অনেক যন্ত্র। সেই তালিকায় ‘ম্যাজিক চার্জার’ও এখন একপ্রকার স্মৃতি।

তবে পুরোনো এই চার্জার শুধু একটি প্রযুক্তি পণ্য নয়। এটি একটি সময়ের সাক্ষী যে সময়ে মোবাইল ফোন ছিল নতুন প্রযুক্তির বিস্ময়, আর ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ছোট্ট প্রক্রিয়াটিও হয়ে উঠেছিল দৈনন্দিন জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এক প্রজন্মের কাছে তাই ‘ম্যাজিক চার্জার’ মানেই প্রযুক্তির শৈশবের এক টুকরো নস্টালজিয়া।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১। ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয় বিএস-১-কে। পরে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে ধ্বংসাবশেষটি পাশ কাটিয়ে গেলে কেটে যায় শঙ্কা।
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
মানব সভ্যতার টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক পৃথিবীর ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে।
বিপদের মুখে পৃথিবী, বিজ্ঞানীদের কঠোর সতর্কতা
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবায় বড় পরিবর্তন আনছে গুগল। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরা শুধু জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেল ব্যবহার করতে পারবেন। গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ বা ডেস্কটপ সংস্করণে একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেবে জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট। জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইটকে তুলনামূলকভাবে কম খরচের মডেল হিসেবে বিবেচনা করে গুগল। এর চেয়ে বেশি সক্ষম ফ্ল্যাশ মডেল। আর জটিল কাজ ও উন্নত যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রো মডেল।  শুধু বিনামূল্যের ব্যবহারকারীরাই নয়, পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে গুগলের এআই প্লাস গ্রাহকদের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলারের এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন। গুগলের দাবি, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত ও কোডিংয়ের কাজে বেশি সক্ষম। পাশাপাশি টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে এর বোঝার ক্ষমতাও অন্য মডেলের তুলনায় বেশি। ফলে কোডিং, পড়াশোনা কিংবা বিপুল পরিমাণ নথি বিশ্লেষণের কাজে জেমিনি ব্যবহারকারীদের আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে। গুগল এআই প্রোর মাসিক খরচ ২০ ডলার। আর আরও বেশি ব্যবহারের সীমা থাকা এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। এদিকে মডেল ব্যবহারে নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করছে গুগল। ব্যবহারকারীরা লো, মিডিয়াম ও হাই-এই তিনটি স্তর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন। স্তর যত বাড়বে, মডেল তত বেশি বিশদ ও গভীরভাবে কাজ করবে। তবে বেশি এফোর্ট লেভেল ব্যবহারে নির্ধারিত ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হবে। এআই আল্ট্রা গ্রাহকদের জন্য থাকছে আরও উন্নত সুবিধা। তারা জেমিনির সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য ‘ডিপ থিংক’ অপশন পাবেন। এছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন উন্মুক্ত হলে এআই আল্ট্রা গ্রাহকরাও সেটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে মডেলটি শুধু গুগলের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর সরকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারদের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। জেমিনি ফ্ল্যাশ সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, লেখা তৈরি ও সম্পাদনা, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য সংক্ষেপ করা এবং সাধারণ কোড লেখা বা বিশ্লেষণের মতো কাজ করা যায়।  অন্যদিকে, জেমিনি প্রো তুলনামূলক জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী কাজের জন্য তৈরি। জটিল গণিত ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, কোডিং, বড় নথি বিশ্লেষণ এবং টেক্সট, ছবি, ফাইল ও ভিডিও থেকে তথ্য বিশ্লেষণে এটি বেশি সক্ষম। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বড় নথি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং পড়াশোনার সহায়তায় জেমিনি প্রো ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে, সফটওয়্যার নির্মাতারা কোড তৈরি, ভুল শনাক্ত ও কোড বিশ্লেষণের কাজেও এটি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, দ্রুত উত্তর, সাধারণ লেখালেখি, অনুবাদ কিংবা দৈনন্দিন তথ্যভিত্তিক কাজের জন্য জেমিনি ফ্ল্যাশ বেশি উপযোগী। সূত্র: এনগ্যাজেট আরটিভি/এসআর
জেমিনি ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গুগলের
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে চায় সরকার। প্রত্যেক নাগরিকেরই থাকবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ। ডিজিটাল পরিচয় যাচাই শেষে প্রত্যেকে পাবেন একটি নম্বর (ডিজিটাল পরিচিতি)। ডাক অধিদপ্তরের ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে দেশের পোস্টম্যানদের বিট এলাকা চিহ্নিত করে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার বা ডাক পৌঁছানোর স্থানগুলো শনাক্ত করে যুক্ত করা হবে তথ্যভান্ডারে। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের ঠিকানা এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের। যুক্ত করা হবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও। এর মূল লক্ষ্য দেশের কোনো মানুষ যেন ঠিকানার বাইরে না থাকেন। কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো বার্তা পাঠাতে হলে তা যেন ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠানো যায় সেটিও এ প্রকল্পের লক্ষ্য। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টম্যানদের নির্দিষ্ট বিট রয়েছে। একজন পোস্টম্যানের আওতায় কয়েকশ পরিবার থাকতে পারে। অনেক এলাকায় বাড়ি বা ভবনের নির্দিষ্ট নম্বর থাকলেও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তির নাম, বাড়ির নাম বা স্থানীয় পরিচিতির মাধ্যমে ঠিকানা শনাক্ত করা হয়।  ফলে একই ধরনের বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে অনেক সময় ডাক ও অন্য সেবা পৌঁছাতে তৈরি হয় জটিলতা। প্রকল্পের আওতায় প্রথমে এসব বিটকে ডিজিটালভাবে চিহ্নিত করা হবে। এরপর যুক্ত করা হবে প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার ও ডেলিভারি পয়েন্টের তথ্য। এভাবে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ঠিকানা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আরটিভি/এসআর
দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে
বাংলাদেশে আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে টিআইএন বা টিন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে