ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ট্রেন্ড এড়ানো কঠিন কেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
কাল্পনিক ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। কখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ছবি অ্যানিমেশনে রূপান্তর, কখনও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে ভিডিও তৈরি, আবার কখনও নানা চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একজনের শুরু করা ট্রেন্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন থেকে শুরু করে লাখো ব্যবহারকারীর মধ্যে।

কিন্তু জনপ্রিয় এসব ট্রেন্ড অনুসরণে মানুষের এত আগ্রহ কেন? এর পেছনে কি শুধুই বিনোদন, নাকি রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অন্যদের অনুকরণ, সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নিজের পরিচয় প্রকাশ এবং কোনও গোষ্ঠীর অংশ হয়ে থাকার প্রয়োজন এসব বিষয় মানুষকে ভাইরাল ট্রেন্ডের প্রতি আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও জনপ্রিয় কনটেন্টের ব্যাপক প্রচারও এই প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

মানুষের মধ্যে অন্যদের আচরণ দেখে কোনও কিছুর গ্রহণযোগ্যতা বিচার করার প্রবণতা রয়েছে। মনোবিজ্ঞানে এ ধারণাকে ‘সোশ্যাল প্রুফ’ বা সামাজিক প্রমাণ বলা হয়। কোনও ট্রেন্ডে অনেক মানুষ অংশ নিলে সেটিকে আকর্ষণীয় ও অনুসরণযোগ্য মনে হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, নতুন কোনও ফিল্টার ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ ছবি প্রকাশ করলে অন্যরাও সেটি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরিচিতজন ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ট্রেন্ডটি কেবল বিনোদনের বিষয় থাকে না, বরং সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ নিজের পছন্দ, রুচি ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে পারেন। ভাইরাল ট্রেন্ড অনেক সময় সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়।

২০২৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্টুডিও জিবলির অ্যানিমেশনধর্মী আবহে ছবি তৈরির প্রবণতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পরিচিত মুখকে কল্পনাপ্রসূত নতুন রূপে উপস্থাপন করেন।

একইভাবে, পোশাক, সংগীত ও ভিডিওর ধরন বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করেন। কখনও তা বাস্তব জীবনের প্রতিফলন, আবার কখনও নিজের কাঙ্ক্ষিত পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা।

কোনও ছবি বা ভিডিও প্রকাশের পর লাইক, শেয়ার ও ইতিবাচক মন্তব্য পেলে মানুষের ভালো লাগতে পারে। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও একই ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ জোগায়।

মস্তিষ্কের পুরস্কার-প্রক্রিয়া আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশিত স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত। তাই বেশি মানুষের নজরে আসার সম্ভাবনা ভাইরাল ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগ্রহ বাড়াতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয় কনটেন্ট বেশি মানুষের সামনে আসার সুযোগ পাওয়ায় একটি ট্রেন্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে লাইক বা মন্তব্য পাওয়ার আগ্রহ থাকলেই কাউকে আসক্ত বলা যায় না। অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর নিজের আত্মমূল্যবোধ অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বন্ধুবান্ধব সবাই কোনও ট্রেন্ডে অংশ নিচ্ছেন, অথচ নিজে অংশ নিচ্ছেন না এমন পরিস্থিতিতে কারও কারও মনে হতে পারে, তিনি কোনও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এই অনুভূতিকে বলা হয় ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা ফোমো।

অন্যদের সঙ্গে যুক্ত থাকার স্বাভাবিক চাহিদা থেকেই অনেক সময় এ ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে কোনও ট্রেন্ড ভালো না লাগলেও আলোচনা থেকে বাদ পড়ার ভয় কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মিল রাখার আকাঙ্ক্ষায় কেউ তাতে অংশ নিতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ট্রেন্ড সৃজনশীলতা, হাস্যরস ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। তবে কিছু ট্রেন্ড বিপজ্জনকও হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া কিংবা অন্যের চাপে নিজের নিরাপত্তা উপেক্ষা করা বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দলগত চাপ, নতুন কিছু করার উত্তেজনা এবং সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনও ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনও ট্রেন্ড জনপ্রিয় হলেই সেটিকে নিরাপদ বা অনুসরণযোগ্য মনে করা উচিত নয়।

ভাইরাল ট্রেন্ডের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ঘরে বসে রান্না, অনলাইন নাচ ও বিভিন্ন মজার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া অনেকের জন্য সময় কাটানো এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার উপায় হয়ে ওঠে।

সরাসরি দেখা করা সম্ভব না হলেও একই কাজ করা কিংবা একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হতে পারে। কঠিন সময়ে এমন সম্মিলিত অভিজ্ঞতা একাকিত্ব কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। ট্রেন্ডটি কি সত্যিই নিজের ভালো লাগার জায়গা থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে, নাকি সবাই করছে বলে অংশ নেওয়া হচ্ছে? এতে কি সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ রয়েছে, নাকি উদ্দেশ্য শুধু অন্যের স্বীকৃতি পাওয়া? আর এতে কোনও শারীরিক, মানসিক বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে কি না?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেন্ড অনুসরণ সব সময় অন্ধ অনুকরণ নয়। এটি আনন্দ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক সংযোগের মাধ্যম হতে পারে। তবে অন্যদের সঙ্গে তাল মেলানোর চাপে নিজের পছন্দ, বিচারবোধ ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

শেষ পর্যন্ত, ভাইরাল ট্রেন্ডে অংশ নেওয়া নয়, বরং কেন অংশ নেওয়া হচ্ছে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ইচ্ছা ও ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিতে পারলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিক উপভোগ করা সম্ভব, একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকেও দূরে থাকা যায়।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স পরিমাপের পরিচিত ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপে ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিককে গুরুত্ব দেবে প্ল্যাটফর্মটি।
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তা নিয়ে সন্দেহ হলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
অভিযোগ থেকে সমাধান, সব এক অ্যাপেই!
রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা- নগরজীবনে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এসব সমস্যা জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়া, অভিযোগ জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা কিংবা কোন বিভাগ ব্যবস্থা নেবে, তা খুঁজে বের করাও অনেক সময় নাগরিকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়। এই বাস্তবতায় পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। 
অভিযোগ থেকে সমাধান, সব এক অ্যাপেই!
স্মার্টফোন হারালে যেভাবে পুনরুদ্ধার করবেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে ফোনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্মার্টফোন হারালে যেভাবে পুনরুদ্ধার করবেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট
ফেসবুকের ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যারা
অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ভুয়া আইডি, ছবি ও সাইবার প্রতারণা রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজে চিহ্নিত করতে পারবেন অ্যাকাউন্টটি কোনো বাস্তব মানুষের নাকি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া আইডি। তবে মেটার পেইড সার্ভিস ‘মেটা ভেরিফায়েড’-এর মতো টাকা দিয়ে এই ব্যাজ কিনতে হবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যাজটি পাবেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। নতুন এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। ফেসবুক উক্ত ভিডিওটি অ্যাকাউন্টের মূল ছবি ও তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করবে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। ব্যাজটি পেতে হলে অ্যাকাউন্টধারীকে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো— ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সীরা এই সুবিধা পাবেন না। ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে অ্যাকাউন্টটি সচল অবস্থায় না থাকলে পাওয়া যাবে না এই ব্যাজ। অ্যাকাউন্টে পূর্বে কোনো প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় উপস্থাপন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে এই ব্যাজ পাওয়া যাবে না। ফেসবুক পেজ এবং প্রোফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনামূল্যের এই ব্যাজ সুবিধা পাওয়া যাবে না। মেটার সেলফি ভিডিওভিত্তিক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে নতুবা ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়া যাবে না। পরিচয় যাচাই সফল হলে এই ভেরিফায়েড ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছাড়াও মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে। মেটা বলছে এই ব্যাজটি কেবল একজন ব্যবহারকারী বাস্তব মানুষ কি না সেই প্রমাণ বহন করে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা ব্যক্তিগত আচরণের কোনো নিশ্চয়তা মেটা দেয় না। ফলে অনলাইনে যেকোনো লেনদেন, তথ্য আদান-প্রদান বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সচেতনতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ফিচারটি বিশ্বের নির্বাচিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করবে মেটা। আরটিভি/এসআর
ফেসবুকের ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাবেন না যারা
আরও পড়ুন
৫১ সেকেন্ডের নতুন ভিডিওতে পরীমনি, মুহূর্তেই ভাইরাল
বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি, আসছে ‘ভিউয়ারস’
৩০ সেকেন্ডে বুঝবেন ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না
স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, গিয়ে জানলেন প্রেমিকা এআই