ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিত্যদেশ: রুচিশীল সাহিত্যচর্চার আশাব্যঞ্জক যাত্রা

ওমর বিশ্বাস

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কাগজ ‘সাহিত্যদেশ’-এর ঈদুল আজহা সংখ্যা (চতুর্থ) প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হলো। অবয়ব, আঙ্গিক ও অলঙ্করণের দিক থেকে শফিক সাইফুল সম্পাদিত পত্রিকাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত। প্রচ্ছদ নান্দনিক। বিভিন্ন বিষয় ও বৈচিত্র্যময় বিন্যাসে সাজানো হয়েছে পত্রিকাটি। এতে দেশের প্রবীণ ও নবীন লেখকদের লেখা স্থান পেয়েছে। পত্রিকাটিকে সুন্দর করে তুলতে সম্পাদকের শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়।

প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্যপাঠের আগ্রহ সৃষ্টি, সৃজনশীল উদ্যোগ, মানসম্পন্ন রচনা প্রকাশ এবং পাঠকের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ গড়ে তোলার যে প্রয়াস ‘সাহিত্যদেশ’ নিয়েছে, তা আমাদের সাহিত্যাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি উদ্যোগ। এ বিষয়ে সম্পাদক শফিক সাইফুলের আন্তরিকতা স্পষ্ট। তিনি পত্রিকাটিকে বহুমাত্রিক রূপে নিয়মিত প্রকাশের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

আরও পড়ুন

এ সংখ্যায় প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, মুক্তগদ্য, ব্যক্তিত্ব, কবিতা, ছড়া, গল্প ও সায়েন্স ফিকশনের মতো নানা বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, গদ্যলেখকদের লেখার সঙ্গে তাদের পেন্সিল স্কেচ সংযোজন করা হয়েছে। যদিও স্কেচগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি, সম্পাদক সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এতে নতুনত্বের ছাপ রয়েছে। পাশাপাশি গদ্য বিভাগে বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সূচিপত্রেও ছবির ব্যবহার দৃষ্টিনন্দন। তবে সূচিপত্রে কয়েকটি লেখার ক্ষেত্রে লেখকের নাম অনুপস্থিত থাকায় তা কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। সূচিপত্রে প্রতিটি লেখার সঙ্গে লেখকের নাম থাকা প্রয়োজন।

পত্রিকাটিতে ভিন্নমত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য উন্মুক্ত পরিসরের কথা বলা হয়েছে। সেই অর্থে এর উদার দৃষ্টিভঙ্গির ঘোষণা প্রশংসনীয়। সম্পাদক বলেছেন, এটি কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়; বরং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে আর্থিকভাবে টেকসই হওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু সম্পাদকের একার নয়; পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও রয়েছে। আমরা চাই, পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হোক এবং রুচিশীল সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করুক। মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়—পরিচ্ছন্ন সাহিত্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই হোক এর প্রধান পরিচয়।

একটি রুচিশীল সাহিত্যপত্র হিসেবে ‘সাহিত্যদেশ’ পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই করি। পত্রিকাটির নিয়মিত প্রকাশ ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। এই যাত্রাকে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ সাহিত্যিক পেলেন দোনাগাজী পদক
চাঁদপুরের সংগঠন ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় সাত সাহিত্যিককে দোনাগাজী পদক দেওয়া হয়।
৭ সাহিত্যিক পেলেন দোনাগাজী পদক
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই
কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রকাশক কাদের বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।  তিনি রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। আমীরুল ইসলামের বড় ভাই কামাল আহমেদ ও ‘ছোটদের সময়’ সম্পাদক শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তার প্রকাশিত সব বইই শিশুসাহিত্যের। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আরটিভি/টিআর
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই
লাইফ সাপোর্টে শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
আমীরুল ইসলাম-ছবি: সংগৃহীত
‘নজরুলের চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকের হৃদয়েও পৌঁছে দিতে হবে’
অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ বলেছেন, নজরুলকে কেবল বাঙালির কবি হিসেবে বন্দি না রেখে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার যে সুযোগ কবি নজরুল ইন্সটিটিউটের ২০২৫ সালের কমিটির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা যেন বিন্দুমাত্র ম্লান না হয়। অনুবাদক হিসেবে আমাদের কাজ হলো নজরুলের সেই অম্লান চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও জ্বেলে দেওয়া। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বাংলা একাডেমিতে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আলমগীর বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং অভিভাষণ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় নজরুল এক স্বতন্ত্র ও অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি, এবং তার এই কালজয়ী সাহিত্যকর্মকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো-এর মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদ। দুর্ভাগ্যবশত, নজরুলের সমসাময়িক অনেক বিশ্বসাহিত্যিক যেভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন, নজরুল সেখানে অনেকটাই উপেক্ষিত রয়ে গেছেন। তার সাহিত্যের যে গভীরতা ও বৈশ্বিক আবেদন, সেই তুলনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি এখনো সীমিত। আরও পড়ুন মনসুর আজিজের অষ্টাদশপদী কবিতা: বাংলা কবিতার নতুন সম্ভাবনা একাডেমির সহপরিচালক ড. মাহবুবা রহমান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। নজরুল সাহিত্য অনুবাদের অভিজ্ঞতা ও অনুধ্যান শীর্ষক বক্তৃতা রাখেন অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাহিত্যিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এবং নজরুল গবেষক ও অনুবাদক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নজরুল আমাদের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সাহিত্য বাংলা ভাষার গর্বই শুধু নয় বরং একইসঙ্গে বিশ্বসভ্যতার সম্পদ। তার সাহিত্যকর্মকে অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আরও পড়ুন সাহিত্যদেশ: রুচিশীল সাহিত্যচর্চার আশাব্যঞ্জক যাত্রা সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নজরুল-বর্ষে আমরা নজরুল বিষয়ক গবেষণা ও অনুবাদকর্মের দিকে ফিরে তাকাতে চাই। ভবিষ্যতে নজরুল-রচনা অনুবাদের পরিধি গুণে-মানে আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বপাঠক নজরুলের সাহিত্যকর্মের নিবিড় পরিচয় লাভ করবেন। পরে অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও শাহীনুর রেজা। আরটিভি/এমএম
‘নজরুলের চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকের হৃদয়েও পৌঁছে দিতে হবে’
সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’
প্রখ্যাত নাট্যকার ও সাহিত্যিক সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রচনা ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’ নিয়ে শ্রুতি পাঠের আয়োজন করেছে ধ্রুপদী আর্ট সেন্টার। শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ৪৫ মিনিটব্যাপী শ্রুতি পাঠটির নির্দেশনায় থাকবেন সামিউন জাহান দোলা। ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’ সেলিম আল দীনের প্রেমভাবনার এক অন্তরঙ্গ ও কাব্যিক অনুধ্যান। রচনাটিতে প্রেমকে শুধু প্রণয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং মানুষ, প্রকৃতি, স্মৃতি ও জগতের সঙ্গে মানুষের চিরন্তন সংযোগের গভীর অনুভব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আরও পড়ুন কারিনার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন, যা জানা গেল আয়োজকদের ভাষ্য, রচনাটিতে প্রতিটি সম্পর্ক ও বন্ধন কীভাবে মানুষের মনে চিহ্ন রেখে যায়, ভাঙন কীভাবে কখনো কখনো নতুন সংযোগের আরেক রূপ হয়ে ওঠে এবং প্রেম কীভাবে আত্মার সীমা অতিক্রম করেও টিকে থাকে—সেসব অনুভূতিরই কাব্যিক প্রকাশ ঘটেছে। সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ শ্রুতি পাঠের মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যকর্মের একটি বিশেষ দিক দর্শক-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। শ্রুতি পাঠের পাশাপাশি আয়োজনে সেলিম আল দীনকে নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক আলোচনায় অংশ নেবেন নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক, মানবাধিকার নাট্যকর্মী জাহিদুল আলম হিটো এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী শুসমিন আফসানা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ধ্রুপদী আর্ট সেন্টার। এতে সহযোগিতা করছে ফেনীর সেলিম আল দীন কেন্দ্র। আরটিভি/জেএমএ
সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে ‘ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ’
আরও পড়ুন
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হিন্দুত্ববাদীদের হামলা
দেশের সব পত্রিকা ও টিভির ব্যাংক হিসাবে জমা ২৪১ কোটি টাকা
কবি জামসেদ ওয়াজেদসহ ১৮ লেখক-শিল্পী পেলেন সাহিত্য সম্মাননা
ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন দেড় লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে মেট্রোরেল