ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিত্যদেশ: রুচিশীল সাহিত্যচর্চার আশাব্যঞ্জক যাত্রা

ওমর বিশ্বাস

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কাগজ ‘সাহিত্যদেশ’-এর ঈদুল আজহা সংখ্যা (চতুর্থ) প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হলো। অবয়ব, আঙ্গিক ও অলঙ্করণের দিক থেকে শফিক সাইফুল সম্পাদিত পত্রিকাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত। প্রচ্ছদ নান্দনিক। বিভিন্ন বিষয় ও বৈচিত্র্যময় বিন্যাসে সাজানো হয়েছে পত্রিকাটি। এতে দেশের প্রবীণ ও নবীন লেখকদের লেখা স্থান পেয়েছে। পত্রিকাটিকে সুন্দর করে তুলতে সম্পাদকের শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়।

প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্যপাঠের আগ্রহ সৃষ্টি, সৃজনশীল উদ্যোগ, মানসম্পন্ন রচনা প্রকাশ এবং পাঠকের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ গড়ে তোলার যে প্রয়াস ‘সাহিত্যদেশ’ নিয়েছে, তা আমাদের সাহিত্যাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি উদ্যোগ। এ বিষয়ে সম্পাদক শফিক সাইফুলের আন্তরিকতা স্পষ্ট। তিনি পত্রিকাটিকে বহুমাত্রিক রূপে নিয়মিত প্রকাশের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।

আরও পড়ুন

এ সংখ্যায় প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, মুক্তগদ্য, ব্যক্তিত্ব, কবিতা, ছড়া, গল্প ও সায়েন্স ফিকশনের মতো নানা বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, গদ্যলেখকদের লেখার সঙ্গে তাদের পেন্সিল স্কেচ সংযোজন করা হয়েছে। যদিও স্কেচগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি, সম্পাদক সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এতে নতুনত্বের ছাপ রয়েছে। পাশাপাশি গদ্য বিভাগে বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সূচিপত্রেও ছবির ব্যবহার দৃষ্টিনন্দন। তবে সূচিপত্রে কয়েকটি লেখার ক্ষেত্রে লেখকের নাম অনুপস্থিত থাকায় তা কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। সূচিপত্রে প্রতিটি লেখার সঙ্গে লেখকের নাম থাকা প্রয়োজন।

পত্রিকাটিতে ভিন্নমত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য উন্মুক্ত পরিসরের কথা বলা হয়েছে। সেই অর্থে এর উদার দৃষ্টিভঙ্গির ঘোষণা প্রশংসনীয়। সম্পাদক বলেছেন, এটি কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়; বরং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে আর্থিকভাবে টেকসই হওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। এ দায়িত্ব শুধু সম্পাদকের একার নয়; পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও রয়েছে। আমরা চাই, পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হোক এবং রুচিশীল সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করুক। মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়—পরিচ্ছন্ন সাহিত্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই হোক এর প্রধান পরিচয়।

একটি রুচিশীল সাহিত্যপত্র হিসেবে ‘সাহিত্যদেশ’ পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই করি। পত্রিকাটির নিয়মিত প্রকাশ ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। এই যাত্রাকে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলা এবং তার উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করায় তাকে এ বছর নোবেল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইডিশ একাডেমি।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
নজরুলের দর্শন আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মহৌষধ: মার্কিন গবেষক
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও রাজনৈতিক দর্শনকে আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক খণ্ডন এবং কাঠামোগত নৈতিক অবক্ষয় নিরাময়ের এক চূড়ান্ত রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন রাজনীতিবিজ্ঞানী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক উইনস্টন ই. ল্যাংলি। দীর্ঘ তিন দশকের গভীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তিনি নজরুলের এই বৈশ্বিক উপযোগিতা তুলে ধরেন।
নজরুলের দর্শন আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মহৌষধ: মার্কিন গবেষক
‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন
‘তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুতকৃত ‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
‘বাংলা একাডেমি ফন্ট’-এর উদ্বোধন
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন কমিটি ঘোষণা
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি শায়লা আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আল জাবের নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৬–২০২৮ মেয়াদে এ নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ নজরুল আবৃত্তি পরিষদ-এর নতুন কমিটি ঘোষণা
নজরুলের অমর সৃষ্টি নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ 
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) মেলবোর্নের ড্যানডেনংয়ের ড্রাম থিয়েটারে ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ নামে একটি স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলবোর্ন সময় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা থেকে ০২:৩০টা পর্যন্ত) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৬০জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মেলবোর্নপ্রবাসী নজরুলসংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কিউরেটর আদিলা নূরের পরিকল্পনা ও সৃজনশীল নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে বিদ্রোহী কবির সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক দর্শনকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুল রচিত নাটক ‘ঝিলিমিলি’ ও গীতিনাট্য ‘কাবেরী তীরে’-এর মঞ্চায়ন। অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথমবারের মতো নাটক দুটির মঞ্চায়ন হলো। এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালক আদিলা নূর বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নজরুলের সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক দিকগুলো তুলে ধরতে চেয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তার সাম্য, ভালোবাসা ও মানবতার চিরন্তন বার্তা নতুন প্রজন্মকে আলোড়িত করবে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। শেকড় থেকে দূরে বসবাসের কারণে আমাদের জন্য সেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় ‘সুর ও বাণীর অর্ঘ্য’ দিয়ে। এতে নজরুলের নির্বাচিত চারটি গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। স্থানীয় নৃত্যশিল্পী ক্রিস ও অনিলের দ্বৈত নৃত্যের মধ্য দিয়ে পর্বটি শুরু হয়। এ পর্বের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নজরুলের কবিতা ‘অভিশাপ’ ও গান ‘শূন্য এ বুকে’-এর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিবেশনা, যেখানে তন্বীপ্রিয়া আবৃত্তি এবং আদিলা নূর সংগীত পরিবেশন করেন। ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’ গানের মধ্য দিয়ে পর্বটির সমাপ্তি ঘটে। ২০২৩ সালের নজরুল পুরষ্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের ওপর মূল বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের বাইরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শন পৌঁছে দিতে ‘চিরন্তন’-এর মতো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হয় নজরুলের গীতিনাট্য ‘ঝিলিমিলি’। বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বৃন্দাবন দাসের নির্দেশনায় এতে অভিনয় করেন বৃন্দাবন দাস, শাহানাজ খুশী, দিব্য জ্যোতি ও সৌতি মালবিকা। মেলবোর্নপ্রবাসী সংগীতশিল্পী অর্পণ ও আদিলা নূরের সংগীত পরিবেশনা নাট্য পরিবেশনাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় ‘কাবেরী তীরে’ কাবেরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এক প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে রচিত নজরুলের গীতিনাট্য এটি। মেলবোর্নপ্রবাসী পূরবী চৌধুরীর নির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত এ আয়োজনে অংশ নেন একদল নৃত্যশিল্পী। একইসাথে, নজরুলসংগীতশিল্পী অজয় রায় ও আদিলা নূর সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি স্মারক সংকলনও প্রকাশিত হয়। এতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের লেখা স্থান পায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠক খায়রুল আনাম শাকিল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারপারসন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ; সংগীতশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. লীনা তাপসী খান; ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার কলা ও সংস্কৃতি অনুষদের ডিন এবং ২০২৩ সালের নজরুল পুরষ্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন; আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ড. চঞ্চল খান; এবং ছায়ানটের শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী শারমিন সাথী ময়না। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালি ও স্ট্যান্ডিং ওভেশনের মাধ্যমে প্রশংসিত হয়। নজরুলের সৃষ্টির চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাঙালিদের সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সংযোগ আরও দৃঢ় করার বার্তাও উঠে আসে। আরটিভি/এসকে
নজরুলের অমর সৃষ্টি নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ 
আরও পড়ুন
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
ক্যালিফোর্নিয়ার ছুটির তালিকায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হিন্দুত্ববাদীদের হামলা
দেশের সব পত্রিকা ও টিভির ব্যাংক হিসাবে জমা ২৪১ কোটি টাকা