ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা বিচারের জন্য ঘুরছি’—ফিমার মায়ের কান্না

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ফিমার পরিবার ও স্বজনরা। ছবি: সৌজন্য

ঢাকার আজিমপুরে চাঞ্চল্যকর তাহিয়া তাসনিম ফিমা (১৯) হত্যা মামলার আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য দেন ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর আমার মেয়েটি কখনও ভালো ছিল না। ওর স্বামী আগেও গায়ে হাত তুলেছে, নির্যাতন করেছে। ফিমা ওর মায়ের কাছে সেই নির্যাতনের কথাও জানিয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করেছিলাম, নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন, কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হলো।

003

তিনি বলেন, একটা কথা বলা জরুরি, আমার মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু আমি শুধু ফিমার জন্য আজ এখানে দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছি অন্য ফিমাদের জন্যও, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে এবং যাদের পরিবার সেই হত্যার ন্যায় বিচার পাননি। আমি সেই সকল পিতামাতার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, যারা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন কারণ কোনো না কোনোভাবে আমাদের পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।

002

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি ফিমা হত্যকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। আসামির যখন দোষী সাব্যস্ত হয়, তখন যেন সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়। আমি চাই যে কাজী সাগর এমন দণ্ড পাক, যা একটি বার্তা দেয় যে বাংলাদেশে নারী হত্যার কোনো সহনশীলতা নেই।’

আরও পড়ুন

‘আমাদের বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, আদালতকে বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন নিশ্চিত করতে হবে যেন নারীদের জীবন এবং নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়,’ যোগ করেন তিনি।

মানববন্ধনে ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েটিকে হত্যা করা হলো, তারপর থেকে আমরা থানার বারান্দায় ঘুরছি। কিন্তু চার্জশিট দিতে গড়িমসি করেছে পুলিশ। এটা এমন একটা হত্যাকাণ্ড যার সমস্ত আলামত রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও সব স্পষ্ট, ময়নাতদন্তেও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারপরও কেন এত দেরি হলো? আসলে মামলাটিকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টাই করছে আসামিপক্ষ। এখন আদালতের কাছে আমি দ্রুত এই ঘটনার বিচার চাই।’

004

‘আমার সন্তান হত্যার বিচার যেন আটকে না থাকে এবং আমাদের মতো কেউ যেন স্বজনহারা না হয়, তাই আমরা মানববন্ধন করে দ্রুত এই হত্যাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

এদিকে এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সয়দুজ্জামান জানান, গত ২৬ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ভুক্তভোগী ফিমাকে নির্যাতন ও গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি সাগরের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিটা আদালতের বিষয়।

001

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে ঢাকার আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার (১৯) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকেই ফিমার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপন করে। বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীর সাক্ষ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও ফিমার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাগরের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। কাজী সাগরের বাবা কাজী মনিরুল হক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ ভারতের নদীয়া জেলার গাংনাপুর থানা এলাকায় কাজী সাগর, তার বাবা কাজী মনিরুল হক এবং সাগরের মামা জাফর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ দিন কারাগারে থাকার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফিমার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে বসবাস করছেন এবং এখন পর্যন্ত তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।

এ অবস্থায় ফিমার পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
ঢাকার ধামরাইয়ে ৩৩ কেভি লাইনের তার আপগ্রেডেশন ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি
প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটারের সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে টানা ২৪ ঘণ্টা রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ অথবা বিঘ্নিত হতে পারে।
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
বুধবার (৪ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
বুধবার (৪ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারও মানুষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে তারা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন। সেখানে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।  এদিকে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আজ শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।  এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।  গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।  এর মধ্যে ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।  আরটিভি/এসআর
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
আরও পড়ুন
কুড়িগ্রামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ ও ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন
মাদকব্যবসার প্রতিবাদ করায় মামলার মুখে এলাকাবাসী, ক্ষোভে মানববন্ধন
সোনারগাঁয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন