
বাজারে সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী হয়ে গেছে যে, সরকারও এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, বাজারে মনিটরিং নেই। যে যার ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা উদারণ দিই। এই যে পোলাও চাল, যেটা আমাদের দেশেই উৎপাদন হয়, এই ১৪০ টাকার পোলাও চাল আমাদের ২৩০-২৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ, সরকার নির্বিকার।
ইমরান হাসান বলেন, এখন বলবেন, সরকারের ওপর প্রেশার দেওয়া হচ্ছে। প্রেশার না; এই যে এতগুলো মন্ত্রণালয়— বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় বলেন, তদারকিটা কোথায়? ঘুরে ফিরে কিন্তু চার-পাঁচটা কোম্পানি পোলাও চালের বাজারটা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়েছে, তারা কৃষকের কাছ থেকে এই প্রোডাক্টগুলো কিনে মজুত করে। এরপর সেগুলো প্যাকেটজাত করে বেশি দামে বাজারে ছাড়ে।
তিনি আরও বলেন, এই পোলাও চাল তো আমার দেশে উৎপাদন হয়; আমদানি করতে হয় না। এরকম আরও অনেক পণ্য আছে, যেগুলো এভাবে সিন্ডিকেট করা হয়।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব এরপর বলেন, এই সিন্ডিকেট এখন এতটাই শক্তিশালী হয়ে গেছে যে, সরকারও এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের চলমান সংকট ও তা নিরসনের দাবি তুলে ধরেন মহাসচিব ও সমিতির অন্যান্য সদস্যরা।
চাহিদা পূরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে দেশীয় বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার জন্য এসময় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
গণমাধ্যমের সামনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, শহরের রেস্তোরাঁগুলোর জন্য উন্নত মানের গরুর মাংসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সাধ্যের বাইরে; অথচ এর সরবরাহও অপর্যাপ্ত।
তিনি গবাদি পশু পালন করপোরেট খাতের হাতে চলে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এর ফলে প্রান্তিক খামারিরা ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সিন্ডিকেট পশুখাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যা গ্রামীণ গবাদি পশু পালনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং অনেক এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরের খামারগুলোকে বন্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব আরও বলেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিসহ পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহক হারানোর ভয়ে অধিকাংশ রেস্তোরাঁ তাদের খাবারের তালিকায় (মেনু) দাম সমন্বয় করতে পারছে না। ফলে রেস্তোরাঁ খাতে সামগ্রিক বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রতি কঠোর তদারকি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আওতায় গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সরবরাহ স্থিতিশীল করবে, দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, খাদ্যের মান উন্নত করবে এবং দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে সমৃদ্ধ করবে।
সমিতির নেতারা আরও বলেন, গরুর মাংসের সহজলভ্যতা বাড়লে রেস্তোরাঁ শিল্পের বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব হবে; কারণ মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এর আগে মে মাসে, স্থানীয় বাজারে উচ্চমূল্য ও সরবরাহের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে একই ধরনের দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এসএইচএম



