
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সামনে গ্রাম পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চা কারখানার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ (দফাদার)। ঘটনার পর ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের মূর্খাগছ এলাকায় অবস্থিত পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানিতে এই ঘটনা ঘটে ।
চা কারখানার পরিচালক নবির উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন বুধবার পঞ্চবর্ণ টি কোম্পানির কারখানায় শালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে গ্রাম পুলিশ দফাদার সেকেন্দার আলী ও তিনজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কয়েক দিন ওই জমিতে চা কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সেকেন্দার আলীর পরিবার কেউই প্রবেশ করবেন না।
চেয়ারম্যানের ওই ঘোষণার পরপরই গ্রাম পুলিশ সেকেন্দার আলী তার পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৫০–৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেন। এরপর আতঙ্ক সৃষ্টি করে চা কারখানার প্রায় ১০ শতক জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে দখল নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসন ও থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ সময় গ্রাম পুলিশ সেকেন্দার আলী গ্রাম পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় জমিটি নিজের দাবি করে টিনের বেড়া দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ সেকেন্দার আলীর বক্তব্য নিতে যান। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে সেকেন্দার আলী মোটরসাইকেল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি শালিসি বৈঠকে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমার সামনেই দফাদার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আমি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরুকে জানিয়েছি। দফাদার সেকেন্দার আলী অন্যায় করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে গ্রাম পুলিশের লাঠিসোঁটা নিয়ে জমি দখলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সেকেন্দার আলীকে তখন পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এএএ


