
হালচাষের জন্য ট্রাক্টরচালককে নিজেদের জমি দেখিয়ে দিতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে অন্তর চন্দ্র বর্মণ (১২) নামে এক স্কুলছাত্র।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অন্তর চন্দ্র বর্মণ নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকার ক্ষীরেন্দ্রনাথ বর্মণের ছেলে। সে স্থানীয় বলরামহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, নিজেদের জমি দেখিয়ে দিতে গিয়ে ট্রাক্টরে উঠে চালকের পাশের আসনে বসে অন্তর। পরে নিজেদের জমি চাষ শেষে প্রতিবেশীর জমি চাষের সময় হঠাৎ ট্রাক্টর থেকে ছিটকে নিচে পড়ে গিয়ে ট্রাক্টরের লাঙলের ফলায় বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় অন্তর।
নিহত অন্তরের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের বরাতে চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মমিন গণমাধ্যমকে বলেন, বিকেলে নতুনহাট-ভোটাপাড়া এলাকায় নিজেদের জমিতে হালচাষ করার জন্য ট্রাক্টরচালক আলআমিনকে জমি দেখিয়ে দিতে গিয়ে ট্রাক্টরচালকের পাশের আসনে বসে অন্তর ও অনীক (১৪) নামে তাদের এক স্বজন। নিজেদের জমি চাষের পর প্রতিবেশী কুলেশ চন্দ্র বর্মণের জমি চাষ করার সময় হঠাৎ ট্রাক্টর থেকে নিচে পড়ে লাঙলের ফলার নিচে ঢুকে যায় অন্তর। এতে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনার পরপরই ট্রাক্টর নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান চালক আল আমিন।
অন্তর চন্দ্র বর্মণের চাচা নীতেন্দ্রনাথ বর্মণ গণমাধ্যমকে বলেন, অন্তরদের জমি চাষ শেষ হওয়ার পর অন্তর ও তার বড় ভাইয়ের শ্যালক অনীক ট্রাক্টর থেকে নেমে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু চালক তাদের দুজনকে নামিয়ে না দিয়ে কুলেশ চন্দ্র বর্মণের জমি চাষ করছিলেন। চাষের সময় দ্রুতগতিতে ঘোরানোর কারণে অন্তর ছিটকে পড়ে ফলার নিচে ঢুকে যায়। এ সময় চালক আল আমিন ট্রাক্টরে থাকা অপর কিশোর অনীককে নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। বেশ কিছুদূর নিয়ে অনীককে নামিয়ে দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না বলতে অনুরোধ করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, চাষের সময় ট্রাক্টর থেকে পড়ে এক কিশোর মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
আরটিভি/এমএইচজে



