
মাগুরার শালিখা উপজেলার চিত্রা নদী খননকালে ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি সুলতানী তরবারি পাওয়া গেছে। পরে তরবারিটি সংরক্ষণে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন। তরবারিটি উদ্ধার হওয়ার পর এটি নদী খননকাজের সাব-ঠিকাদার ও মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল সরদারের কাছে সংরক্ষিত ছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নের কাদিরপাড়া এলাকার সাব-ঠিকাদার মনিরুল সরদারের কাছ থেকে ইউএনও মো. বনি আমিন তরবারিটি বুঝে নেন।
এর আগে রবিবার বিকেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিত্রা নদীর খননকাজ চলাকালে এক্সকাভেটরের সঙ্গে একটি ভারী বস্তু আটকে যায়। পরে সেটি উত্তোলন করে দেখা যায়, এটি একটি পুরোনো তরবারি। তরবারিটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক চার ফুটের কাছাকাছি। এর হাতলের বাঁকানো অংশে ক্ষয় ও মরিচা ধরলেও মূল আকৃতি এখনো স্পষ্ট রয়েছে।
সরদার ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউএনও মো. বনি আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাচীন নিদর্শনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং এর ইতিহাস নির্ধারণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।’
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে ভিড় জমান স্থানীয় কৌতূহলী মানুষ। অনেকে ধারণা করছেন, এটি মধ্যযুগীয় বা সুলতানী আমলের কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হতে পারে এবং কোনো প্রাচীন যুদ্ধ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হিসেবেও এর গুরুত্ব থাকতে পারে।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি একসময় জমিদার অধ্যুষিত ছিল। পার্শ্ববর্তী ছান্দড়া গ্রামে একসময় জমিদারদের বসবাস ছিল। ফলে শুধু চিত্রা নদী নয়, শালিখা উপজেলার অন্যান্য নদী খনন করলেও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতিবাহী আরও অনেক নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কয়েকশো বছরের পুরনো বলে ধারণা করা এই তরবারি শালিখা অঞ্চলের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। যথাযথ তদন্ত ও গবেষণা শেষে এটি জাদুঘরে সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস জানার নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর




