ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে বাড়িতে সাপ পুষছেন আশরাফুল, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে আহত একটি বিষধর গোখরা সাপকে ঘরে এনে লালনপালন করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার এক অটোমেকানিক। দুই মাস ধরে সাপটি বাড়িতে রাখায় এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও নানা আলোচনা।

ঘটনাটি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম (৪৫)-কে ঘিরে। পেশায় অটোমেকানিক আশরাফুল জানান, জীবনের নানা পর্যায়ে প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষের ওপর বিশ্বাস উঠে গেছে তাঁর। সেই বিশ্বাসহীনতা থেকেই তিনি আহত অবস্থায় পাওয়া একটি গোখরা সাপকে উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে সেবা করছেন।

আশরাফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে গ্রামের মোড়ে একটি পুরোনো বটগাছ কাটার সময় করাতের আঘাতে আহত হয় গোখরা সাপটি। স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে ফেলতে চাইলে তিনি বাধা দিয়ে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন থেকে সাপটিকে দুধ ও ডিম খাওয়াচ্ছেন তিনি। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই ফুট এবং বয়স আনুমানিক এক বছর। বিষদাঁত না ভেঙেই সাপটিকে লালন করছেন বলে জানান আশরাফুল।

image

তিনি বলেন, আমি বহু মানুষকে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু বিপদের সময় কাউকে পাশে পাইনি। বিদেশ যাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম সেটাও প্রতারণার শিকার হয়েছি। মানুষ আশা দেয়, কিন্তু পাশে দাঁড়ায় না। তাই মানুষের চেয়ে অবলা প্রাণীকে বিশ্বাস করাই ভালো মনে করেছি।

আশরাফুলের পরিবার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তার স্ত্রী পারভিন বেগম (৩৮), ছেলে শাওন ইসলাম (১৮) ও মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯) সাপটি ঘরে রাখায় বিরক্ত ও আতঙ্কিত। প্রতিবেশীরাও বিষয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আলী বলেন, সাপ তো আপন-পর চেনে না। এটা খুবই ভয়ংকর। আরেক প্রতিবেশী মহিনুল ইসলাম বলেন, এভাবে সাপ রাখায় অনেকে তাকে পাগল বলেও মন্তব্য করছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সাপ কখনো পোষ মানে না। বিষধর সাপ বাড়িতে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া বন্য প্রাণীকে এভাবে বাড়িতে রাখা আইনবিরুদ্ধ।

তবে আশরাফুল এসব সতর্কতা উপেক্ষা করেই সাপটি রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার কথায়, মানুষই সবচেয়ে বেশি আঘাত দেয়। আমি বহুবার আঘাত পেয়েছি। এখন এসব কথায় আর কিছু যায় আসে না।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা