ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটের ডিসি সারোয়ারকে শোকজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার ৮ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হয়।

আরও পড়ুন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন পাঠান। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়।

তবে তথ্য না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে বিষয়টি জানান। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য সরবরাহের আদেশ দেন।

এ আদেশের পর বিজিবি তথ্য সরবরাহ করে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য প্রেরণে নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পরে আরও কয়েক দফা আদালত তথ্য চেয়েও পাননি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ওই দিন এক আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালত থেকে আদেশ প্রদান করার দীর্ঘদিন পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার চাওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।

আদালতের নোটিশে বলা হয়, এমন কাজকে আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অথবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যাবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা প্রশাসককে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, আদালত শোকজ দিয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আদালতে জবাব দেওয়া হবে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত নৌবাহিনীর সদস্যের সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত নৌবাহিনীর সদস্যের সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য
‘আমার বাবা ভালো বাবা’
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলছে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। 
‘আমার বাবা ভালো বাবা’
অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ
কুমিল্লার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন কিশোরের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 
অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘বিটিএস’-এর প্রতি অন্ধ আকর্ষণ এবং টিকটকের নেশায় ঘর ছেড়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তায় কুড়িগ্রাম থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং টিকটকে আসক্ত।  পুলিশ জানায়, টিকটক দেখতে দেখতেই তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়ার অবাস্তব ইচ্ছা জাগে। সম্প্রতি তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হলে তিন বন্ধু মিলে দেশ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসযোগে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা। কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর পথ হারিয়ে ফেলে কিশোরীরা। সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাত কাটানোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ওই নারী তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসআই তাজউদ্দিন দ্রুত বাড়িতে এসে কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে তাদের প্রকৃত ঠিকানা জেনে নেন। এরপর তিনি পাবনা সদর থানা ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদর থানা–পুলিশের একটি দল কুড়িগ্রামে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনে। কিশোরীরা বাড়ি না ফেরায় শুরুতেই পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান লাভ করে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর বাবা–মা তীব্র বিব্রত প্রকাশ করেন। তার বাবা বলেন, ‘ওরা তো ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শুকরিয়া।’ আরটিভি/এসএস
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
আরও পড়ুন
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি, দুই শিক্ষককে শোকজ
‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতার অভিযোগ নিয়ে দুই কর্মচারীকে শোকজ করা কর্মকর্তা বদলি
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে শোকজ
সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্ব অবহেলায় ৪ কর্মকর্তা শোকজ