সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত।
সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার ৮ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন পাঠান। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়।
তবে তথ্য না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে বিষয়টি জানান। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য সরবরাহের আদেশ দেন।
এ আদেশের পর বিজিবি তথ্য সরবরাহ করে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য প্রেরণে নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পরে আরও কয়েক দফা আদালত তথ্য চেয়েও পাননি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ওই দিন এক আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালত থেকে আদেশ প্রদান করার দীর্ঘদিন পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার চাওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।
আদালতের নোটিশে বলা হয়, এমন কাজকে আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অথবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যাবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা প্রশাসককে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, আদালত শোকজ দিয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আদালতে জবাব দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমআই





