ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চরফ্যাশনে অবৈধ সেচ পাম্প, খাবার পানির তীব্র সংকট

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৯৪ জন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য সাবমারসিবল সেচ পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

উপজেলা বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারিভাবে ১০০ সাব মারসিবল সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন আট ঘন্টায় গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।

আরও পড়ুন

সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিট চাপ দিলেও পানি উঠছে না। কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন।

এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রতিনিয়ত সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছে। এছাড়াও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গভীর নলকূপে শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের গভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি উঠছে না।

চর মাদ্রাজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারাবছর পানি থাকত। এখন এক ফোঁটাও উঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপে সাব মারসিবল পাম্প বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা শুরু।

একই অভিযোগ করেছেন জিন্নাগড় এলাকায় বাসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, বিলের মধ্যে অবৈধভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এমনকি অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানী বলেন, খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তলন করতে বাধ্য হয়েছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দেড় হাজার অগভীর টিউবওয়েল অচল হয়ে পড়েছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে।

এ পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে। তবে হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য মতে ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জামাল মোল্লা বলেন, 'অপরিকল্পিতভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাব মারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, জানুয়ারির পর যখন সেচকাজের জন্যে পানি উত্তোলন শুরু হয় তখন পানির স্তর দ্রুত হারে নামতে থাকে। অবৈধভাবে স্থাপন করা সাব মারসিবল পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করলে সুপেয় পানির সাম্প্রতিক সংকট থেকে সাধারণ মানুষ রেহায় পেত।

উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাব মারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, অবৈধ সাব মারসিবল পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ব পর্যটন দিবস / কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
বান্দরবানে পর্যটন শিল্প এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চল সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই শিল্পকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়, ঝরনা আর বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির কারণে বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এটি কাঙ্ক্ষিত রূপ নিতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন করপোরেশন এবং হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে কোনো কার্যকর যৌথ রূপরেখা না থাকায় সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে— এমনটাই মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও প্রান্তিক লেকসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মতে, বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এর জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কিছু কার্যকর উদ্যোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ ও অপার সৌন্দর্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে। তবে বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি মহল এই সুযোগটি নিচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থা ও যাতায়াতে আরও স্বচ্ছতা আনা গেলে পর্যটক যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বান্দরবান ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ (বাপ্পা) বলেন, বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পট ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণের অনুমতি না থাকায় দিন দিন বিদেশি পর্যটক কমে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে একদিনেই ঘোরা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এক দিনের বেশি থাকতে চান না। বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পর্যটন শহর হিসেবে বাস্তবে বান্দরবানকে সঠিকভাবে সাজানো হয়নি। জেলা শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে পর্যটকরা একদিনের বেশি থাকতে চান না। শহরে ময়লা-আবর্জনা, যত্রতত্র পার্কিং এবং চলাচলের ভালো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সন্ধ্যার পরে জেলা শহরে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা একদিন থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়ে যান।  তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না। পর্যটন দিবস এলেই সভা, সেমিনার ও র‍্যালির মতো কিছু কর্মসূচির মধ্যেই সব সীমাবদ্ধ থাকে। আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পরিবহনের ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত না থাকায় অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয়। ঢাকা-কক্সবাজার বাস ভাড়ার চেয়ে ঢাকা-বান্দরবান বাস ভাড়া অনেক বেশি নেওয়ার কারণে ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং বর্ষায় ধসের কারণে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও জাতিগত অস্থিরতায় পর্যটক আগমন ব্যাহত হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় পর্যটক সীমিত হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলোতে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল টিমও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আরটিভি/এসএস
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
শরীয়তপুরে তালা ভেঙে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরি
শরীয়তপুরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ের পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র চুরি বা তছনছ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শরীয়তপুরে তালা ভেঙে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরি
সুন্দরবন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা
আসন্ন পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা
নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবায় মিলল মাদরাসা সুপারের মরদেহ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের দুইদিন পর একটি ডোবা থেকে ফরিদুল রহমান (৩৬) নামে এক মাদরাসা সুপারের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবায় মিলল মাদরাসা সুপারের মরদেহ
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।  তিনি বলেন, সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে ‘এক্সপ্লোর-২’ জাহাজে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার বন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের মাধ্যমে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে যেন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে ট্যুর অপারেটরদেরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রেখেই এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। সুন্দরবনে এক দিনে সর্বোচ্চ কতজন পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ যাতে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক, ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাসের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা দেন। পর্যটকবাহী নৌযানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় ট্যুর পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে পর্যটকদের অবস্থানের সময় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থানের পরিবর্তে ট্যুরের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে খুলনা ও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ট্যুর প্যাকেজের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সদস্যরা সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখার সময়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান পপুলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকায় ট্যুর অপারেটর, পর্যটকবাহী জাহাজের মালিক, গাইড, মাঝি এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের আয় ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস)- এর নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, সুধীজন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
আরও পড়ুন
যানজট কমাতে অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধের নির্দেশ
‘দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে’
‘লোকলজ্জার ভয়ে’ সীমান্ত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে
কৃষকদেরকে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেবে সরকার