ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা বালু লুট, নিলাম স্থগিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনকালে জব্দ করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব বালু নিলামে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। নিলামের জন্য নির্ধারিত বালুর বড় অংশ আগেই সরিয়ে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া এলাকায় জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধিদল যায়। নিলামের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বালুর অধিকাংশই আগেই লুটপাট করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ১১ এপ্রিল ওই এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয় (১২ এপ্রিল) জব্দ করা বালু নিলাম হবে বলে। এর আগে গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন অভিযান চালিয়ে এই বালু জব্দ করেছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা ও এসিল্যান্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগর কাটগড়া এলাকার ঘাঘট নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাশেই স্তুপ করে রাখে একটি চক্র। খবর পেয়ে গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন সেখানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন এবং বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। ‎

আরও পড়ুন

পরে ওই সব জব্দ করা বালু ১২ এপ্রিল নিলামে বিক্রির জন্য শনিবার এলাকায় মাইকে প্রচার করে উপজেলা প্রশাসন। সে মোতাবেক রোববার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে নিলাম কার্যক্রমে যায় উপজেলা প্রশাসনের ৫ কর্মকর্তা। কিন্তু বালু বিক্রি করতে গিয়ে নিলাম কমিটি দেখেন, বালুর সিংহভাগ অংশই লুট হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত তারা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে ফিরে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জব্দ করা বালু বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখা হয়েছিল। এসব বালু স্থানীয় একটি চক্র রাতে ট্রাকে ভরে লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রির উপযোগী না থাকায় প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়। ‎

শুধু তাই নয়, তাদের অভিযোগ গত ২৮ মার্চ সকালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় একটি ট্রাক্টর ধরে পুলিশে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু পরে ট্রাক্টরটি অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া তারা প্রশ্ন তোলেন, এক বছর আগে জব্দ করা বালু নিলাম উদ্যোগ নিতে এতো দেরি হলো কেন? দেরি হওয়ার কারণে চক্রটি বালু লুটের সুযোগ পেয়েছে। জব্দ করা বালু লুট হওয়ার কারণে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। তাহলে এই অর্থ বঞ্চিতের দায় কার?

‎নিলামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, জব্দ করা বালু ইউএনওর নির্দেশে নিলামে বিক্রি করতে যাই। কিন্তু আগেই এসব বালু লুটপাট হওয়ায় নিলাম না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মোবাইল ফোনে জব্দ করা লুট হওয়া বালুর দায় স্বীকার করে বলেন, আমার জিম্মায় ছিল, লুটপাট হয়েছে বিষয়টি সঠিক। কিন্তু কারা করেছে এসব সবাই জানে, আমি নিরুপায়।

এ সময় তিনি অভিযোগ তোলেন, এক বছর আগের জব্দ করা বালু নিলাম করতে আমি দফায় দফায় উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। এমনকি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও কথা বলেছি একাধিকবার, আমলে নেওয়া হয়নি। গতকাল মাইকিং হলো আর রাতের মধ্যেই মহোৎসব করে বালু লুটপাট করা হলো।

সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি বলেন, জব্দ করা বালু লুটপাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালুগুলো চেয়ারম্যানের জিম্মাায় ছিল, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও ইফফাত বলেন, আমি আসার পর জানতে পেরেই নিলামের উদ্যোগ নিয়েছি। এর আগে যারা ছিলেন তারা কেন নিলাম করেননি, বিষয়টি আমার জানা নেই।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কিশোরকে ১০ টাকা দিয়ে মেয়ের কাছে পাঠিয়ে ‘সর্বনাশ’ ডাকলেন বাবা
কুষ্টিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে (১৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কিশোরকে ১০ টাকা দিয়ে মেয়ের কাছে পাঠিয়ে ‘সর্বনাশ’ ডাকলেন বাবা
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে, কমেনি পদ্মার ভাঙন। এখনও তীব্র স্রোতে নদীতীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার শেষ সম্বল।
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কিশোরীকে দিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
১৮ মাস আগে নিখোঁজ হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন। নিঝুমের মা মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ‘হ্যাকার সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা (৩২) ও তার সহযোগীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করতেন বাড়ির একটি কবুতরের ঘর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ওহিদুল মোল্লা লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় তিনি ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়িকে অনেকটা নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রেখেছিলেন। বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই তা বুঝতে পারতেন তিনি। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যবস্থা ছিল তার থাকার জায়গা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ঘর। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও ভেতরে ছিল ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ছিল। পুলিশ বলছে, ওই ঘরে বসেই সাইবার অপরাধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিমগুলো আলাদা করে একটি সাদা কাগজে ছক আকারে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হতো, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। ওসি বলেন, ওহিদুল গ্রেপ্তার এড়াতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি স্থাপন এবং কবুতরের ঘরের ভেতরে থাকার ব্যবস্থাও তারই অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/এসকে
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
আরও পড়ুন
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় কাস্টমসের
নিলামে কেনা সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ নিয়ে যে রায় দিলেন হাইকোর্ট
ফসলি জমিতে অবৈধ বালু ভরাট, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৪ লাখ টাকা জরিমানা