ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা ও এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ৪ 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিবি পরিচয়ে সুমন মিয়া নামে এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টাকালে স্থানীয়দের বাধার মুখে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন একদল দুর্বৃত্ত। চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এসময়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় একজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে রসুলপুরের ভাঙ্গারপুল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, দুই দিন আগে শামীম ওরফে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি সুমনের দোকান থেকে দুই হাজার টাকার ফ্লেক্সিলোড নেওয়ার পর টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন সুমন তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করেন। এরই জেরে রোববার রাতে শামীমসহ ৪-৫ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে সুমনের দোকানে উপস্থিত হন। এসময় তারা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুমনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু, ওই সময় সেখানে উপস্থিত আনোয়ার হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তাকে পিস্তল ঠেকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেললে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি চালান তারা। এতে চারজনের গায়ে গুলি লাগে।

পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে শামীম ওরফে জুয়েলকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণধোলাই দেন। অন্যরা অস্ত্রসহ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে শামীমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসাও পায় তারা।

আরও পড়ুন

গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমির হোসেন নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, আটক ব্যক্তি নিজের নাম কখনো শামীম, কখনো জুয়েল বলছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার কাছ থেকে জড়িত অন্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে আমির হোসেন নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরটিভি/এমএস/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া সেই আ. লীগ নেতা পুলিশের হাতে ধরা
চুয়াডাঙ্গায় হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দীককে (৭০) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিনভর অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আবু সিদ্দীক চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত তরিবত মণ্ডলের ছেলে। তিনি কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য। পুলিশ জানায়, চণ্ডীপুর গ্রামের পূর্বপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরের সামনে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছে এবং তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় দর্শনা থানা-পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে যান ওই নেতা। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে আবু সিদ্দীককেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন—একই গ্রামের লক্ষণ (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) ও ফুলন হালদার (৩২)। অভিযানের সময় আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন মাপের নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার জানান, ওই ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আবু সিদ্দীকসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া সেই আ. লীগ নেতা পুলিশের হাতে ধরা
বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষ
খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের গা ঘেঁষে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাশের ড্রেনের নোংরা পানি ও আবর্জনায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে প্রায় ছয় মাস ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ময়লার স্তূপটি কয়েকবার অপসারণ করা হলেও কিছুদিন পর আবার সেখানে আবর্জনা ফেলা হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০৩। এর পাশেই রয়েছে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৩৫ জন। দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত চলাচলের পথের পাশেই গড়ে উঠেছে এই ময়লার ভাগাড়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পাশের দ্বিতল একাডেমিক ভবনের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে আগে নিয়মিত পাঠদান হতো। কিন্তু ভবনের পেছনে ময়লার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের কারণে পূর্ব পাশের ভবনে প্রায় ছয় মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা নিজেদের উদ্যোগে কয়েকবার ময়লা অপসারণ করেছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেখানে ময়লা ফেলা হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভবনের কয়েকটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের একটি ভবনের পাইপ ফেটে নোংরা পানি বিদ্যালয়ের দেয়ালের পাশে পড়ছে। এসব বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সহচরী বিদ্যামন্দিরের একাডেমিক ভবন ও শহীদ মিনারের পেছনে একটি খালি জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। জায়গাটি একটি বহুতল ভবনের পেছনে। ওই ভবনের নিচতলায় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ময়লার ভাগাড়টির পাশ দিয়ে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আশপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ফেলা হচ্ছে। এতে জায়গাটি ধীরে ধীরে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশেও। স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বলেন, স্কুলের এই পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় নাক-মুখ চেপে ধরতে হয়। বাচ্চারা কীভাবে এই দুর্গন্ধের মধ্যে ক্লাস করে, তা বোঝা কঠিন। অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা মাঠ ও আশপাশের জায়গায় খেলাধুলা করে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাভাবিক চলাফেরাতেও সমস্যা হচ্ছে। সহচরী বিদ্যামন্দিরের সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কয়েক মাস আগেও তারা পূর্ব পাশের ভবনে ক্লাস করত। দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পর তাদের অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে জায়গাটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা ছড়িয়ে আশপাশের এলাকাতেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ বলেন, কমিটির সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রথম দিনই বিষয়টি নজরে আসে। প্রধান শিক্ষক, অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকবার ময়লা অপসারণ করেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি অপসারণ এবং সেখানে পুনরায় ময়লা ফেলা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সমস্যাটির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষ
৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চান কৃষক
ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং ফলবান কলাগাছ কাটার ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোনজামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমসহ আরও অনেকে। লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব প্রদান এবং লোকজন জড়ো করে প্রতিপক্ষকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। সোলায়মান মোল্লা গংয়ের ভয়ে ভীত হয়ে ওই এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। যারা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করেন, তাদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন সোলায়মান মোল্লা গং। সারওয়ার জাহান আরও বলেন, আসামিরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছেন। বাড়ির মালামাল ও প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের নিরীহ-অবলা প্রাণী ষাঁড় গরু লুট করারও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। রিংকুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। বৃদ্ধা মা বাধ্য হয়ে একাই ওই বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের সোলায়মান মোল্লা গং প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামিদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রথমে অভিযোগ দায়ের করার জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তার নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সকালেই ওই দুজনের জামিন হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোলায়মান মোল্লা ও অপর আসামি ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাদেরও জামিন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফুট পশ্চিম পাশে তার ৩০ শতাংশ জমির ওপর রোপণ করা প্রায় ৪০০ কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবির টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার সোলায়মান মোল্লা ও তার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স গং গভীর রাতে রামদা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সব কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই কলাবাগানে সাথি ফসল হিসেবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারায় থাকা অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সোলায়মান গং ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আরটিভি/টিআর
৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চান কৃষক
৪২ লাখ টাকার ‘আলোর প্রকল্প’ অন্ধকারে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করতে দুই অর্থবছরে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সৌরবাতি। একসময় এসব বাতির আলোয় আলোকিত হতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে কয়েক বছর না যেতেই অধিকাংশ বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। খুঁটি ও সৌরপ্যানেল থাকলেও রাতে জ্বলছে না বাতি। ফলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত আলোকায়ন প্রকল্পের সুফল এখন অনেক এলাকাতেই মিলছে না। ফলে আলোর নিচেই অন্ধকার। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১৯টি সৌরপ্যানেল স্থাপন করা হয়। এসব সৌরপ্যানেল স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫২৬ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাতিগুলো স্থাপনের পর শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকার রাতের পরিবেশ বদলে যায়। সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলে স্বস্তি আসে। কিন্তু অনেক বাতি কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করে। কোথাও ব্যাটারি, কোথাও প্যানেল কিংবা বাতির অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২৮–৩০ হাজার টাকায় বাজারে পাওয়া সৌরবাতি প্রকল্পে ৫৬ হাজার টাকা দরে দেখানো হয়েছে। নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণেও বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সড়কের পাশে এখনো সৌরবাতির খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটির ওপরে সৌরপ্যানেল, আর নিচে বাতি ও ব্যাটারি থাকলেও রাতে অধিকাংশ বাতিই জ্বলে না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা এসব অবকাঠামো এখন অনেকটা অকার্যকর পড়ে আছে। এতে গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল, অনেক এলাকাতেই তা পূরণ হচ্ছে না। আব্দুল ওহাব আলিম মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ততই এসব বাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন বেশিরভাগ সৌরবাতিই আর সচল নেই। ফলে রাত হলে অনেক জায়গা অন্ধকারে ডুবে যায়। তাঁর প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা সৌরবাতিটিও কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। নিম্নমানের হওয়ায় বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প অনেক আগের। নতুন করে এখনো আলোর প্রকল্প পাইনি। তবে পুরনো বাতি সচল করা যায় কি না, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চায়। এর আগে স্থাপন করা সৌরপ্যানেলের অধিকাংশই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
৪২ লাখ টাকার ‘আলোর প্রকল্প’ অন্ধকারে
মা ইলিশ ধরলে মিলবে কঠিন শাস্তি
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মা ইলিশ ধরলে মিলবে কঠিন শাস্তি
আরও পড়ুন
শিক্ষিকাকে অপহরণ চেষ্টা, যুবক বললেন ‘সিএনজিতে ঘুরে বেড়িয়েছি’
৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল সুন্দরবনের ‘মজনু বাহিনী’
ককটেল ফোটালেই ৫ হাজার টাকা, যোগাযোগে ভারতীয় নম্বর: ডিবি
বোনকে ফিরে পেতে খুবি শিক্ষার্থীর আকুতি