ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অবশেষে ধরা মাগুরার সেই ‘ধুরন্ধর’ অনলাইন জুয়াড়ি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম নয়ন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) মাগুরা সদর থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে শহরের ভিটাসাইর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নয়ন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভার ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মাগুরা সদর থানায় অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা মোবাইল ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মাহামুদ গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ভিপিএন ও প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করতেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৭ টাকা লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত ১
স্থানীয়রা জানান, সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে প্রীতি গ্রুপের ওই তৈরি পোশাক কারখানার ভিতরে হঠাৎ বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে এবং আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত ১
বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন জামায়াত নেতা 
সিরাজগঞ্জে  বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর।
বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন জামায়াত নেতা 
২০ মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রির চেষ্টা মাদকাসক্ত বাবার
চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে ২০ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২০ মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রির চেষ্টা মাদকাসক্ত বাবার
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কচুয়া থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
যুবলীগকর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান, না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার
ঢাকার ধামরাইয়ে নিষিদ্ধ যুবলীগের কর্মী রিফাত আহমেদকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, কলিম উদ্দিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং কৃষিকাজ ও গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে পুলিশ বলছে, তার কোনো দলীয় পদ না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং তার ছেলে নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা হওয়ায় তাকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি এলাকায় কলিম উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন ভাবনহাটি এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলে প্রকৌশলী রিফাত আহমেদ নিজেকে নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে রিফাতেরও কোনো দলীয় পদ নেই। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা আছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। রাতে বাড়িতে অভিযান কলিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে যান। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের পোশাক পরেছিলেন। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর কলিম উদ্দিন দরজা খুলে দেন। সে সময় বাড়িতে কলিম উদ্দিন, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, মেয়ে হ্যাপী আক্তার ও ছেলের বউ ছিলেন। পুলিশ রিফাতের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে বাড়িতে নেই। রাজনীতি করার কারণে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগও নেই। পরে ‘কথা আছে’ বলে কলিম উদ্দিনকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জন ব্যক্তি আমাদের বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়ে। আমার স্বামী দরজা খুলে দেন। তখন বাইরে পুলিশের পোশাক পরা ও গেঞ্জি-প্যান্ট পরা কয়েকজনকে দেখতে পাই। আমাদের বাড়িতে আমি, আমার স্বামী, মেয়ে ও ছেলের বউ ছিলাম। পুলিশ আমার ছেলের কথা জানতে চায়। আমরা বলি, সে প্রায় দুই-তিন বছর ধরে বাড়িতে নেই। রাজনীতি করে, তাই তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। এই কথা বলার পর পুলিশ ‘কথা আছে’ বলে আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে রাস্তায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যায়। আজ তাকে আদালতে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী কৃষিকাজ করেন, গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলে রাজনীতি করে, তাই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না। আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করেন না। বাড়িতে থাকেন, কাজ করেন। তার নামে কোনো মামলা নেই। ছেলে রাজনীতি করে, তাই আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমার স্বামী তো কোনো দোষ করেননি। পরিবারের দাবি, ‘বাবা রাজনীতি করেন না’ কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তার বলেন, আমি প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। আমার ভাই রাজনীতি করে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সে কখনো বাড়িতে আসেনি। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই। আমার বাবা রাজনীতি করেন না। তিনি কাজ করেন, কৃষিকাজ করেন, গরু দেখাশোনা করেন। গতকাল পুলিশ আমার ভাইকে ধরতে আসে, না পেয়ে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। সে তো রাজনীতি করে না, তাকে কেন এই মামলায় দেওয়া হবে? আমার বাবাকে দেখতে যাওয়ার কেউ নেই। আদালতে সঙ্গে যাবে কেউ নেই। আমাদের ওপর এই জুলুম কে দেখবে? আমার বাবা তো কোনো অন্যায় করেননি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি বাড়িতেই থাকেন এবং কৃষিকাজ ও গরু পালনের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের ব্যাখ্যা কী কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির (কলিম উদ্দিন) ছেলে রিফাত আহমেদ নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা। তার নেতৃত্বেই কিছুদিন আগে মিছিল হয়েছে। কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেছেন, রিফাত নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা এবং তার পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। সেই কারণে কলিম উদ্দিনকে পেন্ডিং একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কলিম উদ্দিনের নামে কোনো মামলা আছে কি না এবং তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, না, তার নামে কোনো মামলা নেই। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক, এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিফাত কী বলছেন হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে রিফাত আহমেদ নিজেকে নিষিদ্ধ যুবলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তবে তিনি জানান, দলে তার কোনো পদ নেই। রিফাত আহমেদ বলেন, আমি যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। আমার কোনো পদবি নেই। আমার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আমাকে রাজনীতি করতে নিষেধ করেছেন। তারপরও রাজনীতি করি। আমাকে না পেয়ে আমার কৃষক বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমার বাবা কোনো রাজনীতি করেন না। আমার জন্য পুলিশ আমার বাবাকে হয়রানি করতে গ্রেপ্তার করেছে। রিফাতের দাবি, ওই রাতে তার এক প্রতিবেশীকেও পুলিশ নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, শুধু আমার বাবাকেই নয়, রাতে পুলিশ আমার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া শাহীন নামে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছে। শাহীন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। একটা নিরীহ ছেলে। পুলিশ যা ইচ্ছা এখন তাই করছে। তবে শাহীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, অপরাধীরা কখনোই অপরাধ স্বীকার করে না। শাহীনকে যথেষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিফাতের নেতৃত্বে যে মিছিলটি হয়েছে, সেই মিছিলে শাহীনকে দেখা গেছে। আরটিভি/টিআর
যুবলীগকর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান, না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ, এসএসসি পাসেই আবেদন
তৈয়বের পাঞ্জাবির পকেটে মিলল ৫০০ পিস ইয়াবা
মাগুরা জেলা কারাগারের কয়েদির রহস্যজনক মৃত্যু!
মোবাইলে দুই বছরের প্রেম, বিয়ে করতে চান দুই তরুণী!