ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

লিবিয়ায় জিম্মি ৬ বাংলাদেশি তরুণ, পরিবারকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভালো জীবনের আশায় ইতালি পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। অবৈধ পথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তাঁরা মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাঁদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি।

জিম্মি হওয়া তরুণরা হলেন- খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

শাহাদাত হোসেন খিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদের ভাগনে এবং মেহেদী হাসান তার শ্যালক। হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিনই ছয় তরুণের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভিডিও করে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা দিলে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যথায় হত্যা করে মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সপ্তাহখানেক আগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর তারা পাননি।

পরিবারগুলোর ভাষ্য, কেউ আট মাস আগে, আবার কেউ ৯ মাস আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে তাদের ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ২০ দিন আগে তাদের মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দালালদের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার পর সম্প্রতি ছয় তরুণকে আরেকটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। কখনো ভিডিও কল চালু রেখে স্বজনদের সামনে নির্যাতনের ঘটনাও দেখানো হচ্ছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, ছয় পরিবারের কারোরই নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই। আগেই ঋণ, ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিক ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে ২০ লাখ টাকা নেন। একই গ্রামের মানুষ হওয়ায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ছেলেকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মানিক বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে তার হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন ভাই সামছুল আলম।

এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামছুল আলমসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সব লেনদেন হয়েছিল সামছুল আলমের মাধ্যমে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাঠানো ছেলেকে এভাবে নির্যাতিত হতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত নৌবাহিনীর সদস্যের সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত নৌবাহিনীর সদস্যের সামরিক মর্যাদায় শেষকৃত্য
‘আমার বাবা ভালো বাবা’
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলছে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। 
‘আমার বাবা ভালো বাবা’
অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ
কুমিল্লার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন কিশোরের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 
অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘বিটিএস’-এর প্রতি অন্ধ আকর্ষণ এবং টিকটকের নেশায় ঘর ছেড়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তায় কুড়িগ্রাম থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তারা তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং টিকটকে আসক্ত।  পুলিশ জানায়, টিকটক দেখতে দেখতেই তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়ার অবাস্তব ইচ্ছা জাগে। সম্প্রতি তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হলে তিন বন্ধু মিলে দেশ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসযোগে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা। কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর পথ হারিয়ে ফেলে কিশোরীরা। সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাত কাটানোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ওই নারী তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসআই তাজউদ্দিন দ্রুত বাড়িতে এসে কৌশলে কিশোরীদের কাছ থেকে তাদের প্রকৃত ঠিকানা জেনে নেন। এরপর তিনি পাবনা সদর থানা ও নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদর থানা–পুলিশের একটি দল কুড়িগ্রামে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনে। কিশোরীরা বাড়ি না ফেরায় শুরুতেই পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান লাভ করে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিন কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর বাবা–মা তীব্র বিব্রত প্রকাশ করেন। তার বাবা বলেন, ‘ওরা তো ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শুকরিয়া।’ আরটিভি/এসএস
অন্য দেশে চলে যেতে চেয়েছিল বিটিএস–ভক্ত তিন কিশোরী, যেভাবে উদ্ধার
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
৪৮ মাস ধরে বেতনহীন চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল-কলেজের ৩২ শিক্ষক-কর্মচারী
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যা: তিনজনের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর বিবরণ
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
৪ দিন ধরে খোঁজ মিলছে না দুই মাদরাসাছাত্রীর
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন