ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
অপ্রতিম : ছবি সংগৃহীত

আইফোন দিয়ে ছবি তোলা আর টিকটক ভিডিও তৈরির মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। এরপর আইফোনের লোভে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ছক কষা হয় ৭ দিন আগে। ঘটনার দিন ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নেওয়া হয় কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায়। সেখানে আইফোন কেড়ে নিয়ে তা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। তিন আসামির স্বীকারোক্তিতে এ পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তথ্য উঠে এসেছে।

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন বর্ণনা উঠে এসেছে। পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নেওয়া, আইফোন হাতে নেওয়া এবং তাকে আঘাত করার বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা আছে।

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত বলেছেন তুহিন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয়। তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।

তুহিন জবানবন্দিতে বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের ওপর তাদের দুজনের লোভ হয়। ‘দুজন’ বলতে তিনি নিজে ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটির কথা বলেছেন।

তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কিছুটা সামনে দুজনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা হয়।

অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের জবানবন্দিতেও আগের শুক্রবারের ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে ওই কিশোর পরিকল্পনার দায় মূলত তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, ‘তুহিন আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার প্ল্যান করে।’

তৃতীয় জবানবন্দিতে অপর কিশোর বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

অর্থাৎ, তিন জবানবন্দির একটি জায়গায় বড় মিল—হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না। আইফোনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে এসেছে।

তুহিনের জবানবন্দিতে এসেছে, হত্যার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। অপ্রতিম তাকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। ওই রাতেই টিকটকে অপ্রতিমকে মেসেজ করেন তুহিন। পরে অপ্রতিম একটি মুঠোফোন নম্বর দিলে সেই নম্বরে কথা হয়। পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

অপ্রতিম তার বাবার দোকানে কর্মরত ওই কিশোরকেও একই সময় আসতে বলেছিল বলে তুহিনের বর্ণনায় এসেছে। কথা ছিল, তারা ছবি তুলবে। এই ‘ছবি তোলা’র সম্পর্কটিই শেষ পর্যন্ত অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে—এমন বর্ণনাই পাওয়া যায় তিনজনের জবানবন্দি থেকে।

১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা ও সম্পর্ককে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দেখা হয় বলে তুহিন জানিয়েছেন। এরপর অপ্রতিমকে ‘বুদ্ধি দিয়ে’ সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যান। জায়গাটি নির্জন, এটি তার চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তুহিন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, বেলা দুইটার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সে তার আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে পরিকল্পনার কথা খুলে বলে।

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও কাছাকাছি। সে জানিয়েছে, বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা শোনে। এরপর বিকেল চারটার পর তারা পাহাড়ে যায় এবং সেখানে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।

চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা হয়—এ বিষয়টিতেও তিন জবানবন্দির বর্ণনা কাছাকাছি।

দোকানে কর্মরত কিশোরটি জবানবন্দিতে বলেছে, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেয়। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর সে ফোনটি তুহিনের হাতে দেয়।

তুহিনের জবানবন্দিতেও একই ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ওই কিশোর অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে অনেকক্ষণ ব্যবহারের পর সেটি আর অপ্রতিমকে ফেরত না দিয়ে তুহিনের হাতে দেয়। এরপর ফোন নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশও আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন এবং এরপর মারধরের ঘটনা ঘটে।

এরপরের ঘটনাক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনজনের বক্তব্য মিলে যায়—অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করেন তুহিন। প্রথমে অপ্রতিমকে একটি থাপ্পড় মারেন তুহিন। এরপর পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল নিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তারপর অন্য দুজনকে মারতে বলেন।

দোকানে কর্মরত কিশোরটির বক্তব্যেও এসেছে, তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের ঝগড়া হওয়ার পর তুহিন পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে প্রথমে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, তুহিনই প্রথম ওই হাতল দিয়ে অপ্রতিমকে আঘাত করেন।

তিন জবানবন্দির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া যায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের লোভ হয়েছিল।

দ্বিতীয় কিশোর তার জবানবন্দিতে আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল, তুহিন ওই মোবাইল বিক্রি করে আমাকে টাকার ভাগ দিবে। এই জন্যই এই কাজ করা।’ তৃতীয় কিশোরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়েছিল আইফোনটি বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়া হবে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর কে কোথায় ছিলেন, সেই বর্ণনাতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর অন্য দুজন একদিকে চলে যায় এবং তিনি অন্যদিকে চলে গিয়ে বাসায় ফেরেন। দ্বিতীয় জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর দুই কিশোর একসঙ্গে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তখন তুহিন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, সে ও তার বন্ধু একসঙ্গে চলে আসে; তুহিন অন্যদিকে যান। তবে অপ্রতিমের আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল—তিনজনের বয়ানেই এমন কথা উঠে আসে।

তুহিনের জবানবন্দিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে তার বন্ধু মো. সিয়ামকে (১৯) নিয়ে।

তুহিনের ভাষ্য, হত্যার পর বাসায় ফিরে তিনি সিয়ামকে ফোন করে ডেকে আনেন এবং ‘সব কথা খুলে বলেন’। সিয়াম অপ্রতিম হত্যার প্ল্যানের কথা আগে থেকেই জানতেন বলেও জবানবন্দিতে উঠে আসে।

অন্য দুই আসামির জবানবন্দিতে অবশ্য হত্যার আগের পরিকল্পনার সঙ্গে সিয়ামের কোনো সম্পৃক্ততার কথা নেই। পুলিশ সিয়ামকে পরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

পুলিশের ভাষ্য ছিল, তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে ঘটনার কথা জানার পর তা গোপন করেছিলেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, হত্যার দিন রাতেই তুহিন তার সঙ্গে দেখা করে হত্যার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

জবানবন্দিগুলোয় ঘটনার পরের দিনের আচরণের বর্ণনাও রয়েছে। তুহিন বলেছেন, হত্যার পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা তাঁকে ফোন করে অপ্রতিমের খোঁজ করেন। এরপর তিনি সিয়ামকে নিয়ে কোটবাড়িতে অপ্রতিমের খোঁজ করতে যান। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি বলেছে, পরদিন সে অপ্রতিমের বাবার একজন সহকারীর সঙ্গে অপ্রতিমকে খুঁজেছে। পরে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সেও ঘটনাস্থলে যায়।

অন্য কিশোর জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর সে এবং তার বন্ধু সন্ধ্যায় ফেসবুকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেয়। আর এর মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই তিনটি জবানবন্দি পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, আইফোনের প্রতি লোভ, পূর্বপরিকল্পনা, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, ফোন হাতে নেওয়া এবং এরপর হামলার মূল ঘটনাক্রমে মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা ছিল—সেসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়।

এখন সেই বিচারের অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুমিল্লার মানুষ। যে বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম, সেই বিকেলের ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এটাই এখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে।
১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত
এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র
দাকোপ ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।
এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, বিলীন বসতঘর
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি।
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, বিলীন বসতঘর
ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সে চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। 
ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
‘আমাকে ২ কোটি দেন, সব সই করে দেবো’
লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের 'ঘুষ' গ্রহণ ও কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।  রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এর মধ্যে কিছু অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোন একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কি কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসেব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেবো। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি। পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  ভিডিওতে তিনি ওইসব ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে কত? ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।  এদিকে ভিডিওটি ঠিক কতদিন আগের, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।  এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের দাপ্তরিক মোবাইলফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। আরটিভি/এসকে
‘আমাকে ২ কোটি দেন, সব সই করে দেবো’
আরও পড়ুন
৪ দিন ধরে খোঁজ মিলছে না দুই মাদরাসাছাত্রীর
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দিলেন শিক্ষার্থী
যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত কুবির তিন শিক্ষকের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত