বরমী-সিংহশ্রী সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ, দুর্ভোগে চালক ও যাত্রীরা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০১:৩৪ পিএম


বরমী-সিংহশ্রী সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ, দুর্ভোগে চালক ও যাত্রীরা
ছবি: আরটিভি

শ্রীপুরের বরমী থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কের পিচ, ইট ও সুরকি উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভারী ও হালকা যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে চালকেরা গর্ত দেখতে না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরো অংশ ভাঙাচোরা হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের চিত্র এটি। সিংহশ্রী সেতু টোলমুক্ত হওয়ায় দূরপাল্লার ভারী যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করছে। এতে সড়কটিতে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্বল্প সময়ে জেলা শহর গাজীপুর এবং রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার জন্য সেতু পার হয়ে প্রতিদিন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, নরসিংদীর মনোহরদী, গাজীপুরের কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলার হাজারো মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া কাপাসিয়া উপজেলার টোক, সিংহশ্রী, রায়েদ ও বারিষাব ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যও এ সড়কটি প্রধান যোগাযোগমাধ্যম।

এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকেরা জানান, সিংহশ্রী সেতু টোলমুক্ত হওয়ায় সিলেট, কিশোরগঞ্জের ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভারী ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন সড়কটিকে বাইপাস হিসেবে ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বরমী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়েল রানা ও মারিয়া আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙে গেছে। সিএনজি বা অটোরিকশায় চলাচল করলে ভাঙা স্থানে পড়ে উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সব সময় ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়।

শ্রীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার ও সুমাইয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে কলেজে যেতে হয়। বৃষ্টির দিনে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। গর্তের কারণে প্রায়ই যানজটে আটকে পড়তে হয়। ফলে সময়মতো কলেজে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া মাওনা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। সড়ক ভালো থাকাকালে অফিস সময়ের এক ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে বের হলেই যথাসময়ে পৌঁছানো যেত। কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত সিংহশ্রী সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে বরমী পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এখন মাত্র দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই দুই ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে বের হতে হয়।

সিএনজিচালক কফিল উদ্দিন বলেন, সড়কের ভাঙা অংশের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই গ্যারেজে গাড়ি মেরামত করতে হয়। এতে আয়ের অর্ধেকই চলে যায় মেরামতের পেছনে। দ্রুত সড়ক সংস্কার করা না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অটোরিকশাচালক আবু মুসা বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ঝুঁকির কারণে অনেক যাত্রী এ সড়ক ব্যবহার করতে চান না। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও হাফিজুল ইসলাম বলেন, এটি কাপাসিয়া, শ্রীপুর, পাকুন্দিয়া ও মনোহরদীর মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও নূরুল আমীন বলেন, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। পণ্য আনা-নেওয়ায় সময় বেশি লাগছে, এতে ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, বরমী থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহম্মেদ বলেন, বরমী থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশা করছি।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission