হত্যা মামলার আসামি লুকিয়ে ছিলেন শ্বশুরবাড়িতে, ধানের গোলা থেকে গ্রেপ্তার

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৬ পিএম


হত্যা মামলার আসামি লুকিয়ে ছিলেন শ্বশুরবাড়িতে, ধানের গোলা থেকে গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার মুন্টু হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে শ্বশুরবাড়ির ধানের গোলায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজৈর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মুন্টু হোসেন (৫০) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকার বাসিন্দা। 

গত ২৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে উপজেলার তেকালা গ্রামের একটি মাঠে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতা মুন্টুর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সামিরুল তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার আদি বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এই গ্রামে বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে সামিরুলের বড় ছেলে আবু সাঈদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন মুন্টু হোসেন।

মামলার পর থেকেই মুন্টু পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু থেমে ছিল না পুলিশের তৎপরতা। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার দুপুরে তাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়া আদালতে জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, জবানবন্দিতে মুন্টু দাবি করেছেন, সামিরুলের কাছে তিনি কয়েক লাখ টাকা পেতেন। সেই টাকা তিনি ফেরত দিতে অস্বীকার করে আসছিলেন। এ জন্য কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে তিনি (মুন্টু) একা তাকে হত্যা করেছেন। 

আরও পড়ুন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর মুন্টু ওই রাতেই ফোন বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী মেহেরপুরের গাংনীতে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। এরই মধ্যে মুন্টু নতুন আরেকটি সিম কিনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে নতুন সিম দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া পুলিশ রাজৈর থানার পুলিশের সহযোগিতায় মুন্টুর শ্বশুরবাড়িতে যায়। এ সময় মুন্টু ওই বাড়ির উঠানে রাখা ধানের গোলার ভেতর শুয়ে ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে গোলার ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মুন্টুকে কুষ্টিয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে মুন্টু তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বৈঠক করার কথা বলে সামিরুলকে ডেকে নেন। এরপর রাতে তাকে নিয়ে তেকালা মাঠের ভেতরে সড়কের পাশে একটি মাচায় বসে সামান্য বিশ্রাম নেন। জায়গাটি নির্জন ও আশপাশে কোনো বসতবাড়ি নেই। 

তিনি আরও বলেন, গল্প করতে করতে একসময় সামিরুলের ঘুম ঘুম ভাব আসে। তিনি মাচায় শুয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন মুন্টু। হত্যার পর ছুরিটি ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপে ফেলে দেন। মুন্টুর দেখানো জায়গা থেকেই রোববার রাতে সেই ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission