ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পিরোজপুরের ২০৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই উপযুক্ত খেলার মাঠ

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
মাঠের পরিবর্তে পুকুর থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। ছবি: আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই নেই উপযুক্ত খেলার মাঠ। কোথাও মাঠ নেই, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের সামান্য খোলা জায়গা থাকলেও তা খেলাধুলার উপযোগী নয়। ফলে উপজেলার ২১ হাজার ৭'শ কোমলমতি শিক্ষার্থী নিয়মিত খেলাধুলা, চিত্তবিনোদন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় টিফিন ও বিরতির সময় শ্রেণিকক্ষেই বসে থাকতে হচ্ছে শিশুদের। এতে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে ব্যস্ত সড়ক ও পুকুর থাকায় মাঠের পরিবর্তে বাইরে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

001

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের বড় একটি অংশে নেই খেলার জন্য নির্ধারিত বা উপযুক্ত মাঠ। মাঠের অভাবে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি আন্তঃবিদ্যালয় বা উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বিদ্যালয় ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের সাথে সড়ক কিংবা জলাশয় থাকায় শিশুদের খেলাধুলার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই।

উপজেলার ৫৬ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে ব্যস্ত সড়ক। বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায় সড়কের আশপাশে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান শিক্ষক-অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী আদনান আল আহনাফ বলে, আমাদের স্কুলে খেলার মাঠ নেই। টিফিনের সময় শ্রেণিকক্ষেই বসে থাকতে হয়। স্কুলের পাশে রাস্তা থাকায় বাইরে গেলে দুর্ঘটনার ভয় থাকে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে ৮৭ নম্বর মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুকুরঘেঁষা। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সাঁতার না জানা শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ের আশপাশের জলাশয়টি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, খেলার মাঠ না থাকায় কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন। আমাদের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় মাঠ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

002

অভিভাবকদের দাবি, শুধু উদ্যোগ বা আশ্বাসে নয়, বিদ্যালয়ভিত্তিক জরিপ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে মাঠ নেই সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি খাসজমি, পরিত্যক্ত জমি বা বিদ্যালয়ের আশপাশের উপযুক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ তৈরি করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিদ্যালয়জীবনেই খেলাধুলার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। বিদ্যালয়গুলোর অনেক জায়গায় মাঠ তৈরির মতো জমিও নেই। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে আবেদন জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী বলেন, আমি এ উপজেলায় কয়েকদিন হলো দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কতগুলো বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, তা এখনো জানা নেই। তবে যেসব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো খেলার উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের যেসব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, সেখানে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই সামনে এলো ‘চরম সত্য’
পিরোজপুরে প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’