ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনে নেই, মোংলায় এলো কীভাবে এই মুখপোড়া হনুমান!

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
মুখপোড়া হনুমান। ছবি: আরটিভি

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার করমজল মোংলা থেকে নদীপথে মাত্র প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। পশুর নদী পেরিয়ে এই পথেই যেতে হয় সুন্দরবনের ওই অংশে।

সেই সুন্দরবনের কাছের মোংলা শহরের ব্যস্ত সড়কে এবার দেখা মিলল এমন এক হনুমানের, যার স্বাভাবিক বিচরণ এই এলাকায় নয়।

নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। কেউ বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছেন, কেউ গাড়ির অপেক্ষায়। আর তাদের মাথার ওপর বটগাছের মোটা ডালে বসে নিশ্চিন্তে রুটি খাচ্ছে একটি ধূসর রঙের হনুমান।

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে মোংলা নদী পার হয়ে স্থায়ী বন্দরসংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের কাছে এমন দৃশ্যই দেখা গেল।

সময় তখন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে। ব্যস্ত সড়কের পাশে গাছের ডালে বসে থাকা হনুমানটির মানুষের চলাচল নিয়ে যেন কোনো আগ্রহ নেই। রুটি খাচ্ছিল, মাঝে মাঝে খাওয়া থামিয়ে নিচের মানুষের দিকে তাকাচ্ছিল, আবার খাবারে মন দিচ্ছিল।

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এটি মুখপোড়া হনুমান বা কমন ল্যাঙ্গুর (Semnopithecus entellus) বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধূসর শরীর, কালো মুখ ও হাতের পাতার এই প্রজাতির হনুমান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর ও কেশবপুর অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।

তাহলে সুন্দরবনের এত কাছে মোংলার এই ব্যস্ত এলাকায় মুখপোড়া হনুমানটি এলো কোথা থেকে?

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে মোংলা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একসঙ্গে দুটি হনুমানকে দেখা গিয়েছিল। কখনো গাছের ডালে, কখনো রাস্তার পাশে, আবার কখনো কলাবোঝাই ট্রাকের ওপরও দেখা গেছে তাদের।

পরে স্থানীয়রা জানান, ওই দুটি হনুমানের একটি ট্রাকের চাপায় মারা গেছে। নারী হনুমানটি মোংলার একটি এলপি গ্যাস ফ্যাক্টরির গেটের কাছে মারা যায় বলে তাদের ভাষ্য।

মৃত হনুমানটির কোনো ছবি বা ঘটনার স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি স্থানীয়দের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে।

এখন যে হনুমানটি ঘুরে বেড়াচ্ছে, স্থানীয়দের ধারণা, সেটি পুরুষ। তাদের কেউ কেউ বলছেন, দুটি হনুমান একসঙ্গেই এলাকায় এসেছিল। একটি মারা যাওয়ার পর অন্যটিকেই এখন মোংলার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে।

তবে হনুমান দুটি জোড়া ছিল কি না, কিংবা একটি মারা যাওয়ার পর অন্যটি তাকে খুঁজছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য নেই।

মোংলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনিরুল হায়দার ইকবালের ধারণা, যশোরের কেশবপুরের দিক থেকে কোনো কলাবোঝাই ট্রাকে চড়ে হনুমানটি মোংলায় এসে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, কেশবপুর ও আশপাশের এলাকায় এই প্রজাতির হনুমানের বিচরণ রয়েছে। ওই এলাকা থেকে কলাবোঝাই ট্রাক বিভিন্ন পথে মোংলায় আসে। কোনো একটি ট্রাকে উঠে অজান্তেই হনুমান এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে আসতে পারে।

তবে এটিকে নিশ্চিত তথ্য নয়, সম্ভাব্য কারণ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

বন্যপ্রাণী নিয়ে প্রায় ৩৯ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রবের।

তার অভিজ্ঞতাও বলছে, কলাবোঝাই গাড়ির সঙ্গে হনুমান এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে আসতে পারে। নতুন কোনো এলাকায় পৌঁছে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রাণীটি ঘুরে বেড়াতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সঙ্গী হারানোর পর কোনো প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, জানতে চাইলে আব্দুর রব বলেন, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা বিচ্ছিন্নভাবে ঘোরাফেরার মতো আচরণ দেখা যেতে পারে। তবে মোংলায় ঘুরে বেড়ানো এই হনুমানটি সঙ্গী হারানোর কারণে এমন আচরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বন্যপ্রাণীর আচরণকে মানুষের প্রেম বা বিরহের ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করাও ঠিক নয়। খাবার, আশ্রয়, নিরাপত্তা কিংবা অপরিচিত পরিবেশে পথ হারিয়েও একটি বন্যপ্রাণী একই এলাকায় ঘুরে বেড়াতে পারে।

তাই আপাতত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কীভাবে এই মুখপোড়া হনুমানটি মোংলায় এসেছে।

হয়তো কোনো কলাবোঝাই ট্রাকে চড়ে কেশবপুর থেকে এসেছে।

হয়তো অন্য কোনো এলাকা থেকে মানুষের অজান্তে চলে এসেছে।

অথবা খাবার ও আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়েছে মোংলার ব্যস্ত এলাকায়।

রোববার সকালে বটগাছের ডালে বসে রুটি খাওয়া হনুমানটি একসময় উঠে দাঁড়াল। চারপাশে তাকিয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল অন্যদিকে।

নিচে তখনও মানুষের ব্যস্ততা। পথচারীরা যাচ্ছেন, গাড়ি চলছে, বাসস্ট্যান্ডে ভিড় বাড়ছে।

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের এই শহরে বন্যপ্রাণীর দেখা মেলা অবশ্য একেবারে অসম্ভব নয়। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যে মুখপোড়া হনুমান এখানে ঘুরছে, তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র এই এলাকা নয়।

কয়েক দিন আগে একই এলাকায় দুটি হনুমানকে দেখা গিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে একটিকে।

একটির পরিণতি স্থানীয়দের ভাষ্যেই জানা যাচ্ছে। কিন্তু বেঁচে থাকা এই মুখপোড়া হনুমানটি কীভাবে মোংলায় এলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাকে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেপ্তার ৫
রাজবাড়ীর পাংশায় মাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা এলাকায় এ মিছিল করেন নজরুল ইসলাম। এতে ৫০ থেকে ৭০ জন নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পাংশা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মিছিলে অংশ নেওয়া পাঁচজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামের সাইফুল প্রামাণিক (২০), ইরান প্রামাণিক (২২), নয়ন মোল্লা (২০), রাব্বি হোসেন (২২) এবং মেঘনা উত্তরপাড়া গ্রামের সুহান শেখ ওরফে সোহান (২৩)। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পাংশা থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত বাহাদুরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। গত ৭ নভেম্বর ভোরে বাহাদুরপুর এলাকায় সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়ে তারা মিছিলে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, মিছিলের ছবি ও ভিডিও শনিবার সন্ধ্যার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ এলাকায় মিছিল করার কথা জানান। একই সঙ্গে অতীতে নিজের ও পরিবারের ওপর হামলা, হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগও তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার চলাফেরা শুরু করেছেন এবং আন্দোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। মিছিলের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাস্ক পরা এক নারী ব্যানারের সামনে হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তার পেছনে আরও কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এগুলোর ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাংশা থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
মাকে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, গ্রেপ্তার ৫
সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি, তালাক ঠেকাতে পারলেন না ইতি
সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। একসঙ্গে পথচলার এই সময়ে সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি ইতি ও রনি খান ।
সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি, তালাক ঠেকাতে পারলেন না ইতি
শিশুকে যৌন নিপীড়ন, ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড
মক্তবে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
শিশুকে যৌন নিপীড়ন, ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড
৯৬-এর মতো আ.লীগ-জামায়াত দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রাশেদ খাঁন
৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী দেশের বিরুদ্ধে, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা ও র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, অতীতে যারা জনগণের ওপর গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখন এক জায়গায় আসছে। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, ৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী দেশের বিরুদ্ধে, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে।  রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তখন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তার দাবি, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা এই ষড়যন্ত্রের সূচনা করেছেন এবং বাংলাদেশে বসে এই চক্রান্তের সাথে যুক্ত হয়েছে সেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলাম। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন, তিনি যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে তার পাশে থেকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের অপশক্তি এক হয়েছে। একাত্তরের রাজাকার ও চব্বিশের রাজাকারদের রুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির বিকল্প নেই।  তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বিএনপি, যুবদলসহ বাংলাদেশপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান রাশেদ খাঁন। এর আগে বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। পরে সেখান থেকে বের হওয়া র‍্যালির নেতৃত্ব দেন রাশেদ খাঁন। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
৯৬-এর মতো আ.লীগ-জামায়াত দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রাশেদ খাঁন
পলাতকদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সড়কমন্ত্রী
পলাতক ও ওয়ান্টেড আসামিদের দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার আইনের মাধ্যমেই হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ইছামতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন, পলাতক আসামি, ওয়ান্টেড আসামি—তারা দেশে আসুন, সেটা তো আইন চায়। তাদের যে সাজা আছে, সেই সাজা মোকাবিলার জন্যও আমরা চাই, তারা দেশে এসে আদালতের মুখোমুখি হোন। তিনি আরও বলেন, ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা অপকর্ম, দুর্নীতি, গণহত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক মামলার রায় হয়েছে, কিছু মামলার বিচার এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা রায় কার্যকর করবে সরকার ও বিচার বিভাগ। এর আগে ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদীর ওপর কুন্ডেরবাজার সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী। মুন্সীগঞ্জ (হাতিমারা)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর (ছনবাড়ি) জেলা মহাসড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেতুটি নির্মিত হলে টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখানসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলোসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন মন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিক। আরটিভি/টিআর
পলাতকদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সড়কমন্ত্রী
আরও পড়ুন
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ১০ জেলে
জাবিতে প্রথম দেখা মিলল উত্তুরে হনুমানের
মৎস্যজীবীদের পদচারণায় মুখরিত সুন্দরবনের দুবলার জেলে পল্লী 
সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য: অপরাধীর তালিকায় এবার দুই নারী