
শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষকালে অন্তত দেড় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এতে ককটেলের আঘাতে মান্নান সরদার (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন এবং রিপন মোল্লা (৪০) নামের অপর একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মান্নান সরদার পার্শ্ববর্তী সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় মোশারফ চৌকিদার ও আজাহার চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যায় রেজাউল সিকদার-সমর্থিত এসকেনদার সরদার, আতাউর মাঝি, আমির মাঝি ও ওয়াসিম মোল্লার গ্রুপ তমিজ খাঁ-সমর্থিত বাবুল মোল্লা ও লাবলু মোল্লার গ্রুপের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে উভয় পক্ষ অন্তত দেড় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় হামি মোল্লার ছেলে রিপন মোল্লার হাতে ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে তার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে মান্নান সরদারকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত আরও অন্তত ১০ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের হাতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ওই এলাকায় যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য গত দুই দিন ধরে জাজিরা থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করেছিল। এরপরও তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আরটিভি/টিআর



