ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল, সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ছবি: আরটিভি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাঁচটি মাদরাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এমন ফলাফলের পেছনে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দাবি করেছেন চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন।

তার দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে শিক্ষার্থীরা ভীত ও বিহ্বল হয়ে পড়ায় তারা পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৯৯ সালে এমপিওভুক্ত কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদরাসায় বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও ৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ফেল করেছে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত রামনগর দাখিল মাদরাসায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও পরীক্ষা দেওয়া ১৩ জনের কেউই পাস করেননি, যাদের মূল সমস্যা ছিল আরবি সাহিত্যে। এ ছাড়া ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৮৬ সালে এমপিওভুক্ত চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদরাসায় ২১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে এবং তাদের বড় অংশ ফেল করেছে গণিত ও কুরআন মাজিদে। অন্যদিকে চকরঘুনাথ দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা দাখিল মাদরাসা থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে।

এদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ঘোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় সেই দুটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হারও শূন্যে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে ওই সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এ ফলাফল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, একটি উপজেলার পাঁচটি মাদরাসায় একসঙ্গে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমরা কষ্ট করে সন্তানদের মাদরাসায় পাঠাই। কিন্তু নিয়মিত পাঠদান ও মনিটরিংয়ের অভাবেই আজ আমাদের সন্তানদের এই করুণ পরিণতি হয়েছে। শিক্ষকদের এই গাফিলতির দায় কে নেবে?

চকদেবীররাম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজিব বলেন, পড়ালেখার মান খারাপ হওয়ার কারণেই ফলাফলের এই অবস্থা হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এটাই প্রত্যাশা।

কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদরাসার সরকারি গণিত শিক্ষক মো. এজাজ আলী বলেন, আমাদের মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অনিয়মিত এবং অনেকে ঝরে পড়া। আমরা নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লাস ও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করলেও তারা নিয়মিত উপস্থিত হয় না। অভিভাবকদের সচেতন করতে অভিভাবক সমাবেশ করা হলেও সেখানেও আশানুরূপ উপস্থিতি পাওয়া যায় না। মূলত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্বভাবের কারণেই ফলাফলের এই বিপর্যয়।

চকদেবীররাম চকভোলাই আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের মাদরাসা থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার সম্মুখে পড়ে তারা ভীত ও বিহ্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষা ভালো করতে পারেনি। এছাড়াও বাল্যবিয়ের কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রী ঝরে পড়া এবং করোনাকালীন দুর্বলতাও এর পেছনে প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আলিম পরীক্ষাতেও শতভাগ সাফল্য ছিল। এবার দাখিলে এমন ফলে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। তবে আশা করছি, চলমান আলিম পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীরা আবারও ভালো ফল উপহার দেবে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, মান্দা উপজেলার পাঁচটি মাদরাসার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করুক, তা আমাদের কাম্য নয়। অতি শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে বসে বিগত বছরগুলোর ফলাফলের ধারা পর্যালোচনা করা হবে। যদি ধারাবাহিক খারাপ ফলাফলের চিত্র দেখা যায়, তবে তাদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফলাফলের প্রসারে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, মান্দায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রভাব রয়েছে। করোনার প্রভাবের পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলের কারিকুলামে মূল পড়াশোনা বাদ দিয়ে নাচ-গান ও রান্নাবান্নার মতো অন্যান্য কাজের প্রাধান্য বেশি ছিল, যা শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছেড়ে রাজপথে ছিল। এসব নানা কারণেই ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
মানিকগঞ্জে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে একটি ফ্ল্যাট বাসায় ঢুকে হাজেরা বেগম (৭০) নামে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তার গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর সেওতা এলাকার বায়তুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাজেরা বেগমের মেয়ে আলেয়া বেগম বলেন, বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে বোরকা পরা এক ব্যক্তি বাসার গেটে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। তার মা দরজা খুলে দিলে ওই ব্যক্তি তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন নিয়ে পালিয়ে যান। ব্যক্তির হাতে একটি চালের ব্যাগ ছিল। তিনি আরও বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে পাশের বাসার লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি বাসায় ফিরে মাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের পাশে উত্তর সেওতা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে আহত হাজেরা বেগম মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরটিভি/এসএস
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতন দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সংবর্ধনা, আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সবক দেওয়া হয়েছে।
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জালে আটকে যাওয়া একটি বিষধর পদ্মগোখরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলে ফারুক মাঝি এ মাছটি বিক্রি করেন।  মতিরহাট ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম খোকন জানায়, ঘাট এলাকার স্থানীয় জেলে ফারুক মাঝি এক সপ্তাহ সাগর থেকে ফিরে প্রায় দেড় লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেন। যার মধ্যে এ ইলিশটি পৃথকভাবে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।  ঢাকার মাছ ব্যবসায়ী মো. বাহার মিয়া মাছটি কিনে নেন।  বাহার মিয়া জানান, তিনি এ মাছটিসহ অন্য মাছগুলো ঢাকার বাজারে নেবেন। সেখানে গিয়ে এ মাছটির দাম কত হবে, এমনটি জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কমপক্ষে ১ থেকে ২ হাজার লাভে বিক্রি করবো। তারপর ঢাকার ব্যবসায়ীরা আরও এক-দুই হাজার লাভ করতে পারে। সব মিলে এ রকম বড় সাইজের এ ইলিশটির দাম ঢাকার বাজারে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। বাহার মিয়া বলেন, ছোট মাছে কেজি প্রতি লাভ হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্ত বড় ইলিশে ভালো লাভ করা যায়।  এদিকে স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার জানান, নদীতে ইলিশ কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে জেলেদের এখন মাছ শিকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আরটিভি/এসএস
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন উপজেলার তিন হাজার মানুষ।
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
আরও পড়ুন
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মিস্ত্রিকে মারধর, অতঃপর...
ছাত্রলীগ নেতাকে পালিয়ে যেতে দিয়ে এসআই প্রত্যাহার
ভ্যান চালিয়ে যাচ্ছিলেন ফারুক, মুহুর্তেই পিষে দিলো বাস 
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা