
‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’— এমন আবেগঘন প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এক ‘চিঠি উৎসব’। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠি লেখার আবহমান ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে নওগাঁ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। এতে অংশ নেয় কলেজের শত শত শিক্ষার্থী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেই কলেজ চত্বর শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা খুদে বার্তার (এসএমএস) ডিজিটাল যুগে কাগজে কলমে মন খুলে লেখার এই অনন্য সুযোগ তৈরি করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা। ডিজিটাল ডিজিটাল এই সময়ে চিঠির খাম আর ডাকটিকিটের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেকের জন্যই ছিল বেশ রোমাঞ্চকর।
উৎসবস্থলে শিক্ষার্থীরা বসেই তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, শৈশবের প্রিয় বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষদের উদ্দেশ্যে নিজেদের মনের কথা লেখে। চিঠি লেখার পর সবাই সেগুলো নিজ হাতে কলেজ মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঐতিহ্যবাহী লাল ডাকবাক্সে ফেলে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুবিধা পায়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ-ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ এবং শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, জীবনে এই প্রথম কাগজে কলমে চিঠি লিখলাম। মেসেঞ্জার বা ফোনে প্রতিনিয়ত কথা হলেও মনের অনুভূতি হাতে লিখে জানানোর আনন্দ যে কতটা গভীর, তা আজ না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।
গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। দীর্ঘ সময় পর আজ দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি লিখলাম। বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে জমা হওয়া প্রতিটি চিঠি ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বলেন, দ্রুত যোগাযোগের নানান আধুনিক মাধ্যম চালু হলেও চিঠির আবেগী টান ও চিরন্তন গুরুত্ব আজও অপরিবর্তনশীল। তরুণ প্রজন্মকে চিঠি লেখায় উৎসাহিত করতে এবং ডাকসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
তাছাড়া, যুগের চাহিদা মেনে ডাক বিভাগের সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ডাকসেবা গ্রহণের আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
আরটিভি/এমএম


