
বয়স আশির কোঠা পেরিয়েছে। শরীর আর আগের মতো চলে না। মুখের প্রায় সব দাঁত পড়ে গেছে, ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না, ডান হাতটিও প্রায় অচল। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে দুই নাতনিকে নিয়ে অত্যন্ত নিদারুণ ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের বৃদ্ধা ছকিনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলারোয়ার জালালাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে অন্যের জমিতে একটি ছোট্ট ছাবড়া ঘরে বসবাস করছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি ঘরটির অর্ধেকের বেশি অংশ পুকুরে ধসে পড়ায় সেটি মারাত্মক মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাঁশের খুঁটি ও কাঠের কাঠামোর ওপর কোনোমতে টিকিয়ে রাখা সেই ঘরেই কাটছিল তাদের দিন-রাত। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভাঙা চাল দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ত, তখন বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো। সরকারি বয়স্ক ভাতা এবং দুই নাতনির সামান্য আয়ে কোনোমতে চলত তিনজনের সংসার। অনেক সময় স্থানীয়দের দেওয়া খাবারই হতো তাঁদের একমাত্র ভরসা।
বৃদ্ধা ছকিনার এই মানবিক দুর্দশা ও অসহায়ত্ব নিয়ে ১১ আগস্ট আরটিভিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। সংবাদটি কলারোয়া উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিষয়টি জানার পরপরই ছকিনার পাশে এসে দাঁড়ান কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। তিনি সরেজমিনে ছকিনার জরাজীর্ণ বাসস্থানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইউএনও আরিফুল ইসলাম জানান, আমি আরটিভির প্রতিবেদনের মাধ্যমে ছকিনার দুর্দশার কথা জানতে পারি। এরপর তার বাসস্থানে গিয়ে খোঁজখবর নিই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করি। ছকিনা যে জায়গায় আছেন, সেটি খাস জমি হওয়ায় আমিন দিয়ে সঠিক পরিমাপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছকিনার জন্য নতুন একটি নিরাপদ ঘর ও বাথরুম নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে প্রকৌশলী দিয়ে নকশা (ম্যাপ) তৈরি করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে ছকিনার দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রশাসনের নজর কাড়ার জন্য আরটিভিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রশাসনের এই দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে বৃদ্ধা ছকিনা ও তার দুই নাতনির পরিবারে। জীবনের শেষ বিকেলে এসে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের যে স্বপ্ন ছকিনা দেখেছিলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, একটি নতুন ঘর কেবল তার মাথার ওপর ছাদই দেবে না, জীবনের শেষ সময়ে ফিরিয়ে দেবে মানবিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি।
আরটিভি/এসএস




