
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ার জেরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিহতের বসতঘরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করা হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে নিহতের পুত্রবধু হোসনা বেগম (৩৮), ভাড়াটে খুনি হোসনা বেগমের দূর সম্পর্কের ভাগ্নে হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (২০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হোসনা বেগম ঘটনার দায় স্বীকার করেন। খুনের ঘটনার সঙ্গে তার প্রবাসী স্বামী জড়িত, তিনি বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বসতভিটা ও জমি লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী ইসমাইল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনা বেগমের বিরোধ চলছিল। ছেলে ইসমাইল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করছিল। ইসমাইল মিয়া বিদেশ থেকে দূর সম্পর্কের ভাগ্নে হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের রুহুল আমিনের কাছে টাকা পাঠায়। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চুক্তি করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মোহাম্মদ আলীকে খুন করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে বৃদ্ধ আলী তিনি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পুত্রবধূ গভীর রাতে ঘরের পেছেনের দরজা খুলে দেন ও টর্চের লাইটের আলো জ্বালিয়ে খুনিদের সহযোগিতা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (১৫ আগস্ট) তড়িঘড়ি করে নিহতের লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে লাশের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম বাদী হয়ে থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আজ (রোববার) বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হোসনা বেগম খুনের ঘটনায় স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে সে ও তার স্বামী পরিকল্পিতভাবে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে তিন জনকে দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার রাতে সে ঘরের পেছনের দরজা খুলে দিয়েছে এবং খুন নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত টর্চের আলো জ্বালিয়ে খুনিদের সহযোগিতা করেছে।
আরটিভি/এমএম




