
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া উপজেলা সংযোগ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করেও তা শেষ না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। গত মে মাসে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পুরোনো রাস্তা তুলে ফেলা হলেও এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। ফলে বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে চাপিয়া এলাকায় কালভার্ট নির্মাণের জন্য তৈরি করা ডাইভারশন সড়কও একাধিকবার ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কসবা-আখাউড়া সড়কের কসবা অংশের সাত কিলোমিটার ও আখাউড়া অংশের চার কিলোমিটারসহ মোট ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল এন্টারপ্রাইজ।
দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার পর গত মে মাসে কসবা অংশে সংস্কারকাজ শুরু হয়। সড়কের পুরোনো অংশ তুলে ফেলার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কাজ দ্রুত শেষ করার পরিবর্তে তা থেমে যায়। জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে সড়ক বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানও জুন মাসের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু জুন পেরিয়ে জুলাই, এরপর আগস্ট মাসও চলে এসেছে। এখনো সড়কের চলাচলের উপযোগী হয়নি। বরং সংস্কারের জন্য রাস্তা তুলে রাখায় কোথাও কোথাও আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে যানবাহন চলাচল করা গেলেও বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে থাকায় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রোগী পরিবহণ, শিক্ষার্থী যাতায়াত ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে চাপিয়া এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য সড়কে ডাইভারশন তৈরি করা হয়। কিন্তু ডাইভারশন সড়কটি একাধিকবার ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার মধ্যে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েক দফা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর ডাইভারশনটি মেরামত করা হলেও এখনো তা পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কারকাজের অগ্রগতি জানতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আখন্দ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। তবে এখনো কাজ এগোচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। এলজিইডির পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে ফেরাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ শেষ করার দায়িত্ব কার?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সংস্কারকাজ শুরু করে রাস্তা তুলে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। বৃষ্টির সময় কাদা ও পানিতে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ছে। অথচ দুই উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের এই সড়কটি সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া কিংবা যোগাযোগের চেষ্টা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কাজ বন্ধ থাকার কারণ চিহ্নিত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজে ফেরানো, প্রয়োজনে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সংস্কারের নামে রাস্তা তুলে রেখে জনগণকে আরও দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে ফেলে রাখার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
আরটিভি/এমএইচজে


