
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিষ প্রয়োগে ২৯টি বন্য পাখি হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট দামুড়হুদা উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে বীজে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে তা খেয়ে পাখিগুলো মারা যায়। ঘটনাটি প্রথমে শনাক্ত করেন কুষ্টিয়া বন বিভাগের দামুড়হুদা এলাকার ফরেস্টার সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তাঁর সহকর্মীরা। পরদিন সন্ধ্যায় দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে যান। তবে তাঁর ছেলে মো. রাজনকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। রাজন ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে বিষ প্রয়োগে ব্যবহৃত উপকরণ ও মৃত পাখি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বন বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী জানান, বিষ প্রয়োগে ২৯টি পাখি হত্যার ঘটনা বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী হত্যা ও অবৈধ শিকার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তি ও জরিমানার দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি পরিযায়ী পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ বা দখলে রাখলে অথবা বেচাকেনা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
আরটিভি/টিআর




