ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুঝুঁকিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ছবি: আরটিভি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার যেন প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে বসবাস করছে। ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের একেবারে ওপর দিয়ে ঝুলে আছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। কোথাও কোথাও বসতঘরের ছাদ থেকে তারের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে এলাকাটি তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইনটি স্থাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সরানো কিংবা নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো তারও অনেক জায়গায় ঝুলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে আড়পাড়া, নদীপাড়া, মধুপট্টি, কোটচাঁদপুর রোড, মাঠপাড়া, দরগাপাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য বসতবাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। অনেক বাড়ির ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন বাসিন্দারা। ছাদে কাপড় শুকানো, নির্মাণকাজ কিংবা সামান্য কোনো মেরামতের কাজ করতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।

আড়পাড়া দরগাপাড়া গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের এলাকার বহু বাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ঝুলে আছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে।

নদীপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর আগে যখন লাইনটি স্থাপন করা হয়, তখন এখানে তেমন বসতবাড়ি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। তার দাবি, গত তিন দশকে এই এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে অন্তত চার-পাঁচজনের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারগুলো এখন অনেক ঘরের ছাদ ও চালের সঙ্গে প্রায় লেগে থাকার মতো অবস্থায়। কত মানুষ যে এই লাইনের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন, তার হিসাব নেই। আমরা চাই, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, প্রায়ই ছাদে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনা যায়। ২০২৩ সালে কালুখালী গ্রামের এক রংমিস্ত্রি নদীপাড়ায় একটি বাড়িতে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনায় আহত অনেককে চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে অনেক পরিবার ছাদে ওঠার সিঁড়ি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

নদীপাড়ার বাসিন্দা আক্তার হোসেন দোলা বলেন, আমাদের বাড়ির ওপর দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের তার গেছে। বাড়ি নির্মাণের সময় আমরা বুঝতে পারিনি এটি কতটা ভয়ংকর। এখন ছাদে উঠতেও ভয় লাগে। কয়েক বছর আগে ডিসলাইনের কাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের সঙ্গে সামান্য সংযোগে বিকট শব্দ হয় এবং অনেক বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটলেও দীর্ঘদিনেও ঝুঁকি নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উচ্চ ভোল্টেজের লাইনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় অনেকে নতুন করে বাড়ি নির্মাণও করতে পারছেন না। কেউ কেউ জমি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না; আবার কেউ কষ্ট করে কেনা জমি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দাদের মতে, লাইনটি মেরামত করে আরও উঁচু করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা সম্ভব হলে ঘনবসতি থেকে সরিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে নেওয়া হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসতে পারে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোনো একদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলতে পারবেন না। তিনি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কালীগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।

আরও পড়ুন

কালীগঞ্জে আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (অফিস হেড) জয়দীপ সরকার বলেন, লাইনটি অনেক আগে স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে এটি সরানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ বিষয়ে আবেদন করা হলে আমি তা করতে পারি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইস্টিমেট চাইবেন। ব্যয়ের হিসাব দেখার পর কর্তৃপক্ষ এটি এখনই করবে কি না, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বসবাস করা স্থানীয় পরিবারগুলোর দাবি, কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তারা দ্রুত লাইনটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, কালীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধী সমাজ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা না করে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খুলনায় ১৫১ পূজামণ্ডপে প্রায় ১২ লাখ টাকার অনুদান
খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৫১টি পূজামণ্ডপে ১১ লাখ ৯২ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে খুলনা জেলা পরিষদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের পক্ষ থেকে এসব চেক বিতরণ করা হয়। খুলনা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাহমিদা হক বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য আমরা আপনাদের কাছে চিরঋণী। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আপনাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রীও সব সময় আপনাদের পাশে আছেন। প্রধান বক্তা এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, আমাদের কাছে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই। এ ধারণা মুছে ফেলতে হবে। আমরা একে অপরের ভাই, বোন ও বন্ধু। আমরা সবাই বাংলাদেশি। ঐক্যবদ্ধভাবে যার যার ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করবেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১৫১টি পূজামণ্ডপে প্রতিটিতে সাত হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের পক্ষ থেকে ২৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিটিতে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অনুদানের পরিমাণ ১১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, খুলনা জেলা বিএনপির নেতা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি আশরাফুল আলম নান্নু, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম এমদাদুল হক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ এবং পুলিশের ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী। এ সময় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ দাস, সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী শেখর দে এবং পৌরসভা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাবুরাম মণ্ডলসহ স্থানীয় নেতারা। আরটিভি/টিআর
খুলনায় ১৫১ পূজামণ্ডপে প্রায় ১২ লাখ টাকার অনুদান
‘গভীর রাতে’ ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে, কৃষকের মাথায় হাত
রংপুরের পীরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমন ধানক্ষেতে কীটনাশক ছিটিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই এলাকার ১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আবদুর রহমান। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর রাতে উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের চাপাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারীর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটির মালিকানা তিনি ও তার ওয়ারিশরা পৈতৃক সূত্রে লাভ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে আবদুর রহমান উল্লেখ করেন, চলতি মৌসুমে ওই জমিতে তারা আমন ধান রোপণের পাশাপাশি মাসকলাই বপন করেন। ফসলের পরিচর্যাও চলছিল। তার অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর রাতে অভিযুক্ত ১৬ জন দলবদ্ধ হয়ে আশিকুর রহমানের নির্দেশে স্প্রে মেশিন দিয়ে ধানক্ষেতে আগাছানাশক প্রয়োগ করেন। এতে তার ও তার ওয়ারিশদের চাষ করা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল খালেক মিয়া বলেন, প্রায় দুই একর জমিতে ধান রোপণের পর গভীর রাতে এভাবে ফসলের ক্ষতি করা হয়েছে। এতে আবদুর রহমানদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী চাই, তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম ও রাজু মিয়া বলেন, আমাদের জমিতে আমরা কেন স্প্রে করব? কে বা কারা স্প্রে করেছে, সেটি জানি না। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওলি আহাদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
‘গভীর রাতে’ ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে, কৃষকের মাথায় হাত
সীমান্তে আনা হলো ভারতীয় নারীর মরদেহ, শেষবার মাকে দেখলেন বাংলাদেশ থাকা মেয়ে
মায়ের শেষ মুখটি একনজর দেখার সুযোগ করে দিতে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় আনা হয় ভারতীয় এক বৃদ্ধার মরদেহ। এ সময় সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জায়রা খাতুন (৭০)।  মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তার মুখ দেখার আবেদন জানান বাংলাদেশে থাকা মেয়ে ও স্বজনেরা। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে মানবিক উদ্যোগে সাড়া দেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ।  তাদের সহযোগিতায় মুজিবনগর সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে শূন্যরেখায় মরদেহটি আনা হয়। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট মরদেহ রাখা হয়। এ সময় মেয়ে হাফিজা খাতুনসহ স্বজনেরা শেষবারের মতো জায়রা খাতুনের মুখ দেখেন এবং আবেগঘন পরিবেশে তাকে বিদায় জানান। পরে মরদেহটি আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মৃত নারী জায়রার মেয়ে হাফিজা খাতুন বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফিকির আলীর স্ত্রী। ঘটনাস্থলে বিজিবির পক্ষে নাজিরাকোনা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলামসহ ৫ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর এস কে রয়সহ ৫ সদস্য। আরটিভি/এসআর
সীমান্তে আনা হলো ভারতীয় নারীর মরদেহ, শেষবার মাকে দেখলেন বাংলাদেশ থাকা মেয়ে
হঠাৎ পাসপোর্ট অফিসে এমপি মানিক, ধরলেন ৩ দালাল
চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য ও সেবার মান যাচাই করতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এ সময় পাসপোর্ট অফিসে দালালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য। এ সময় পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে কেউ হয়রানি, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না, তা জানতে চান তিনি। পরে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, পাসপোর্ট অফিসে এসে যা দেখলাম, আসলেই এখানকার পরিবেশ ভালো না। দেশের উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা মাঝেমধ্যে পাসপোর্ট অফিসে এসে খোঁজখবর রাখবেন। আমরা চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও দালালমুক্ত হিসেবে দেখতে চাই। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজে পাসপোর্ট সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/টিআর
হঠাৎ পাসপোর্ট অফিসে এমপি মানিক, ধরলেন ৩ দালাল
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় যে কাণ্ড ঘটালেন কালু
নোয়াখালীর সুধারামে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল হোসেন ওরফে কালু (১৯)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন(এসআরবি)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাটের ধানশালিক ইউনিয়নের চরমণ্ডলিয়া এলাকার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রবিউল হোসেন ওরফে কালু নোয়াখালীর সুধারাম থানার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর এলাকার বাসিন্দা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সুধারাম থানা‍য় বাদীর রান্নাঘরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে রবিউল তাকে ধর্ষণ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আরটিভি/টিআর
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় যে কাণ্ড ঘটালেন কালু
আরও পড়ুন
স্বামীর ‘বদলে যাওয়া’ সইতে না পেরে ‘চরম সিদ্ধান্ত’ নিলেন গৃহবধূ
বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মনিকা, অতঃপর...
যে গ্রামে নারীরাই সামলান পূজার সব দায়িত্ব
মেয়েকে দেখার ছলে প্রায়ই সাবেক স্ত্রীর বাসায় যেতেন পলাশ, অতঃপর...