ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রংপুরে চার হত্যা: আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
গ্রেপ্তারকৃত আসামি (বাঁয়ে) ও পুলিশ কর্মকর্তা (ডানে)।ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, একই ধরনের শার্ট আলাদা ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে।

রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। পরে জানা যায়, তিনি পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে, রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামির পরনে থাকা শার্ট এবং মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের একটি শার্ট দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে আটক দুজনের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

শনিবার (২২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার জানান, রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন?

জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, এত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব, আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত ২
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় মনিকা (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা ও অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত ২
বাবাকে হত্যার পর পালালেন মাদকাসক্ত ছেলে, মা আটক 
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে ছেলের লাঠির আঘাতে লভলাল চক্রবর্তী (৫৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে অর্ণব চক্রবর্তী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলের মাকে (আভা চক্রবর্তী) আটক করেছে পুলিশ।
বাবাকে হত্যার পর পালালেন মাদকাসক্ত ছেলে, মা আটক 
স্বামীর এক থাপ্পড়েই প্রাণ গেল স্ত্রীর
নাটোরের সিংড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীর থাপ্পড়ে পূর্ণিমা খাতুন (২৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
স্বামীর এক থাপ্পড়েই প্রাণ গেল স্ত্রীর
ডিমের আশায় মাছ কাটতেই বের হলো লোহার টুকরা
মাছের পেটে ডিম পাবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন গৃহিণী সুইটি আক্তার। কিন্তু মাছ কাটতেই বেরিয়ে এলো একটি নাটবল্টু ও দুটি মসৃণ লোহার খণ্ড।
ডিমের আশায় মাছ কাটতেই বের হলো লোহার টুকরা
বিদ্যালয়ে ৩৩ লাখ টাকার অনিয়ম, প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বরখাস্ত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।
বিদ্যালয়ে ৩৩ লাখ টাকার অনিয়ম, প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বরখাস্ত
আরও পড়ুন
সুপারি বাগানে পড়েছিল মাদক ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ
‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ‘ধান্দা রফিক’ গ্রেপ্তার
যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা