
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বিসিআইসির বাফার সার গুদামের ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিসপাসের নামে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুদামে সার খালাস না করেই ছাড়পত্র প্রদান, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পছন্দের ডিলারদের দ্রুত সময়ে সার পাইয়ে দেওয়ার মতো অনিয়ম তিনি নিয়মিত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিসপাস সুবিধা দিয়ে ডিলারদের কাছে গাড়ি পাঠানোর কারণে তিনি ডিলারদের দেওয়া ঘুষের টাকা চালকের মাধ্যমে গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যোগদানের পর থেকেই সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিসিআইসি ডিলার মেসার্স তাজু এন্টারপ্রাইজের (ছদ্মনাম) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে ট্রাক বাফার গুদামে আনলোড না করেই জরুরি সেবার (ডিসপাস) নামে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারদের নামে সারের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। সার খালাস না হলেও প্রতি চালানে শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ট্রাকচালকদের মাধ্যমে অবৈধ টাকা গ্রহণ করেন গুদাম ইনচার্জ অহিদুজ্জামান।
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের কারণে অতিরিক্ত খরচ বাড়ায় প্রান্তিক ডিলাররা খরচ পোষাতে কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এ ছাড়া ডিসপাসের মাধ্যমে সারের গাড়ির ছাড়পত্র দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অনেক সার গুদামেই আটকে থাকে। ফলে ওই ইউরিয়া সার জমাট বেঁধে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। পরবর্তীতে সারের কার্যক্ষমতা হারায়।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাফার গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি উপজেলার সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই গুদামের অধীনে মোট ১২৬ জন বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নোয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা ঝিনাইদহ-ট-১১৩১ নম্বরের একটি ট্রাক বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে গুদামে প্রবেশ করে মাত্র ১৫ মিনিট পর শৈলকূপার উদ্দেশে গুদাম ত্যাগ করে। এ সময় ট্রাকচালক রাশেদুল ইসলাম জানান, গাড়িটির সার আনলোড করা হয়নি, শুধুমাত্র ডিসপাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যেভাবে টাকা দিই, ওইভাবেই টাকা দিয়ে আমরা ডিসপাসের কাগজ নিই।
বাফার সার গুদামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ১১ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিসিআইসি ডিলারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গুদাম ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু গাড়িকে ডিসপাসের মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এভাবে সার দেওয়ার নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারিভাবে নিয়ম না থাকলেও আমরা ডিলারদের সুবিধার্থে সেটা করে আসছি। তবে অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুর রেজা জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সার নিয়ে কেউ অনিয়ম বা দুর্নীতি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, সার গুদামের ডিসপাসের ব্যাপারে গুদাম ইনচার্জকে ডেকে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
আরটিভি/টিআর


