ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে ৩ নার্সকে বদলি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
আকস্মিক পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: আরটিভি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের কাউন্টারে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজন সিনিয়র সেবিকা—রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।

হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন এবং দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। অচিরেই সারা দেশে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট পূরণ করে জনগণকে গ্রামাঞ্চলেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা উদ্ঘাটন ও সমাধানের চেষ্টা করছি।

পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে মঠবাড়িয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ঘুরে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি কোম্পানির গ্যাসের সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সংসারের ব্যয় বাড়ছে। আবার চাহিদামতো সিলিন্ডার না পেয়ে অনেককে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, হঠাৎ এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে তাকে ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। ব্যবসায়ী রনি হোসেন বলেন, পাইকারি পর্যায়েই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিলাররা নির্ধারিত দামে গ্যাস সরবরাহ করলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারতেন। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, গত দুই মাস ধরে তারা বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্য একটি কোম্পানির সিলিন্ডারও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে বলে তাদের দাবি। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহন নামের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, বাসটি জব্দ ও এর হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরটিভি/টিআর
সাতসকালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; তোমাদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তোমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খাইরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়কারী রহমত আরা লস্করার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাহজাহান বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক রিপন আনসারী এবং জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মিনহাজ মিয়া। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাচ, গান, ফ্যাশন শো ও আলোচনা পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/টিআর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
আরও পড়ুন
‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’— প্রচারাভিযান ১ ডিসেম্বর থেকে
ক্যানসার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা
চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী