
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা, রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসাসেবার নানা সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভন্ড’ ও ‘ছোটলোক’ বলে গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গালিগালাজসংবলিত সেই লেখাটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে তার নিজ এলাকা শ্বশুয়া চরের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হলে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নজরে আসে।
জানা যায়, সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে নজর না দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সভা-সেমিনারে ব্যস্ত থাকেন বলে সমালোচনা করেন।
সাংবাদিকের ওই গঠনমূলক সমালোচনার তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জবাব না দিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। এ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তার জবাব দেওয়া যেত। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অশালীন ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা ডেকেছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অবিলম্বে প্রত্যাহার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে অশালীন আচরণ সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সাংবাদিকদের গালিগালাজের বিষয়টি স্বীকার করে ডা. লুৎফর রহমান আজাদ জানান, এই ধরনের মন্তব্যের জন্য তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জন ড. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পুরো বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন এবং একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসএস




