ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মাদরাসাছাত্রের ‘যন্ত্রণার কথা’ বোঝেনি কেউ, ফের পাঠানো হয় শিক্ষকের কাছে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগে আল আমিন নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তথ্য গোপনের চেষ্টা ও ছাত্রদের উসকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকেও আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ওই শিশু নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। পরে তাকে মাদরাসাসার আবাসিক শাখায় রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে যৌন নির্যাতন করছিলেন। এ সময় শিশুটি পেটব্যথা ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে।

শিশুটি অসুস্থতার কথা মাকে জানালে তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে থাকার সময় শিশুটির নানা বাথরুমে রক্ত দেখতে পান। পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

সামান্য সুস্থ হওয়ার পর ১১ দিন আগে তাকে আবারও মাদরাসায় রেখে যান মা। তবে পরিবার জানায়, এই সময়েও শিশুটির ওপর পুনরায় নির্যাতন চালানো হলে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।

ভুক্তভোগীর মা জানান, ছেলে ফোন করে তাকে বলেছিল, ‘মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। পেট ব্যথা করছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না।’

পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসা ও পরীক্ষার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়। এরপর শিশুর বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় সামনে আসার পর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।

শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে বিচার দাবি করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনও মাদরাসার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

এদিকে মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও গেট বন্ধ করে ছাত্রদের লাঠি হাতে স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে প্রিন্সিপাল দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি কেবল আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আল আমিন ও হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রিন্সিপাল জানান, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসার প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
ছাত্রীকে ধর্ষণ, সব সম্পদ দিয়ে মুক্তি চান মাদরাসাশিক্ষক
মহাসড়কের পাশে পড়ে আছে সরকারি ওষুধ, নেই মেয়াদ
মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের জেরে দুই ইউনিয়নের সংঘর্ষ
বুড়িচংয়ে নিখোঁজ মাদরাসাছাত্র ইব্রাহিমের সন্ধান চায় পরিবার