
বরিশালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত নিমগাছ রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াপুরের ডেফুলিয়ায় খালেদা জিয়ার রোপণ করা নিমগাছ ও স্মারক ফলক সংস্কারের পাশাপাশি এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নির্দেশে সিটি করপোরেশনের স্থাপত্য ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ওই স্থান পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরিশালের কড়াপুরের ডেফুলিয়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি সেখানে একটি নিমগাছও রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সম্প্রতি বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন ডেফুলিয়া পরিদর্শন করে সেখানে একটি খেলার মাঠ ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেন। এরই মধ্যে ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেন সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম। শুক্রবার স্থানীয় লোকজন ও সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার সদস্যরা বাধা দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনকালে বিসিসির কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে জানান, ওই স্থানে থাকা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার রোপণ করা নিমগাছ এবং ভাঙা স্মারক ফলক সংস্কার করা হবে।
বিসিসি প্রশাসকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুশফিকুল হাসান মাসুম বলেন, প্রশাসকের নির্দেশে তারা ডেফুলিয়ায় গিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। সেখানে থাকা ফলকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অযত্নে নিমগাছটির অবস্থাও ভালো নয়।
তিনি জানান, আগামী বুধবার থেকে নিমগাছটি ঘিরে গোলচত্বর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে স্মারক ফলকটিও সংস্কার করা হবে। এ কাজে আর্কিটেক্ট আনিছুর রহমান লুসান কাজ করবেন।
মুশফিকুল হাসান মাসুম আরও বলেন, ডেফুলিয়ার সরকারি খাসজমিতে সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। বর্ধিত এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠের পাশাপাশি একটি দর্শনীয় স্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন চান, মানুষ যেন এখানে আসতে পারেন। খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত নিমগাছকে ঘিরে একটি সুন্দর ও দর্শনীয় স্থান গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
আরটিভি/এসকে




