ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর খাদিজা খাতুন (১৬) নামের এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তবে মাদরাসার ভেতর কীভাবে ছাত্রী মারা গেল তাৎক্ষণিক তার উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

নিহত ওই ছাত্রী সিংড়া উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের মেয়ে। মাদরাসা সুপার সুলাইমান সরদারও একই গ্রামের বাসিন্দা।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত ছাত্রী খাদিজা খাতুন ওই হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসা থেকে খাদিজাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও খালু।

সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি জানাজানি হলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে গুরুদাসপুর থানা ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন তিনি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন খাদিজা এমন তথ্য প্রচার করেন তার মা। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ারও দাবি করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত খাদিজার মা ও স্বজনেরা।

নিহত মাদরাসা ছাত্রী খাদিজার মা মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকায় মাদরাসা সুপার ও তার স্ত্রীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ওই হাফিজিয়া মাদরাসায় বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদরাসার ভেতরেই সেখানকার এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসা ছাত্রী খাদিজা নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
এক দশকে মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার কত ছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন কতজন?
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ
শনিবার ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ছাত্রীকে ধর্ষণ, সব সম্পদ দিয়ে মুক্তি চান মাদরাসাশিক্ষক