
নাটোরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর খাদিজা খাতুন (১৬) নামের এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
তবে মাদরাসার ভেতর কীভাবে ছাত্রী মারা গেল তাৎক্ষণিক তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত ওই ছাত্রী সিংড়া উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের মেয়ে। মাদরাসা সুপার সুলাইমান সরদারও একই গ্রামের বাসিন্দা।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত ছাত্রী খাদিজা খাতুন ওই হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসা থেকে খাদিজাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও খালু।
সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি জানাজানি হলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে গুরুদাসপুর থানা ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন তিনি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন খাদিজা এমন তথ্য প্রচার করেন তার মা। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ারও দাবি করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত খাদিজার মা ও স্বজনেরা।
নিহত মাদরাসা ছাত্রী খাদিজার মা মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকায় মাদরাসা সুপার ও তার স্ত্রীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ওই হাফিজিয়া মাদরাসায় বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদরাসার ভেতরেই সেখানকার এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসা ছাত্রী খাদিজা নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
আরটিভি/এসএস



