ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু রায়হানের পা কাটা নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
মো. রায়হান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার শিশু মো. রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর একটি চক্র তার পা কেটে দিয়েছে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য ও ঘটনাক্রম অনুসন্ধান করে এর সঙ্গে পাওয়া ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তেই রায়হানের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয় রায়হান। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর রায়হানকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। পরে মাথায় আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকা রেলওয়ে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রায়হান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে থাকার সময় আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে লভ্যাংশের বিনিময়ে পানি বিক্রি করত। পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তিও করত সে।

ওই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রোপচারের পর রায়হানকে প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। এ সময় তার পরিচর্যার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একজন আয়াকে দেওয়া হয়। আরেছা নামের ওই আয়াই প্রায় দেড় মাস শিশুটির দেখাশোনা করেন।

পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রায়হান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নেয়। স্টেশনে তাকে সবাই ‘মালির মা’ নামে চিনতেন। সেখানে থেকেই রায়হান ভিক্ষা করত।

পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, একপর্যায়ে রায়হান তাদের জানায়, তার মা মারা গেছেন এবং সে বাড়ি যেতে চায়। পরে তার বন্ধু জাকির তাকে যাত্রাবাড়ীতে নিয়ে যায় এবং একটি বাসে তুলে দেয়।

রায়হানকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল রিয়াজুল করিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। একইভাবে স্টেশনের মিনা নামের এক নারীও শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে দাবি তার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর রায়হানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে হাসপাতালের মেঝেতে বসে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়েছে। একই ভিডিওতে সে জানায়, তার মা-বাবা নেই। তার মাথা ও পেটে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।

রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দীনের ছেলে। ১২ বছর বয়সী রায়হান একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত। প্রায় সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে চুনতি এলাকার একটি মাহফিলে স্থানীয় বাসিন্দারা রায়হানকে দেখতে পান। পরে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে শিশুটিকে শনাক্ত করেন তার বাবা।

রায়হানের বাবা পেশায় দিনমজুর। তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়েছে এবং বর্তমানে দুজনের আলাদা সংসার রয়েছে। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে রায়হান তার সৎমায়ের সঙ্গে থাকত।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগেই রায়হানের ডান পা ছিল না। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের চিহ্ন দেখা যায়। এরপরই তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর কোনো একটি চক্র তার পা কেটে দিয়েছে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পুলিশের দেওয়া ঘটনাক্রমে দেখা যাচ্ছে, রায়হান ১১ জুন ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং ২ জুলাই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার একটি পা কেটে ফেলা হয়।

এসব তথ্যের বিষয়ে জানতে রায়হান ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। বর্তমানে তারা হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিবন্ধকতাও থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধী ফয়েজকে
কাঁধে ব্যাগ, হাতে বই। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের পথে রওনা হয় ফয়েজ হোসেন (১৬)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথকে কঠিন করেছে, কিন্তু থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নকে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও মনোবল নিয়ে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে।
প্রতিবন্ধকতাও থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধী ফয়েজকে
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
নাটোরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর খাদিজা খাতুন (১৬) নামের এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।  রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মাদরাসার ভেতর কীভাবে ছাত্রী মারা গেল তাৎক্ষণিক তার উত্তর পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত ওই ছাত্রী সিংড়া উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের মেয়ে। মাদরাসা সুপার সুলাইমান সরদারও একই গ্রামের বাসিন্দা। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত ছাত্রী খাদিজা খাতুন ওই হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসা থেকে খাদিজাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও খালু।  সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি জানাজানি হলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে গুরুদাসপুর থানা ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন তিনি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন খাদিজা এমন তথ্য প্রচার করেন তার মা। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ারও দাবি করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত খাদিজার মা ও স্বজনেরা। নিহত মাদরাসা ছাত্রী খাদিজার মা মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকায় মাদরাসা সুপার ও তার স্ত্রীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ওই হাফিজিয়া মাদরাসায় বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদরাসার ভেতরেই সেখানকার এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসা ছাত্রী খাদিজা নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি। আরটিভি/এসএস
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানাধীন নিউ মার্কেট বি ব্লকের তৃতীয় তলায় একটি কাপড়ের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
দিনাজপুরে বাড়ছে কলার চাষ। জেলার ১৩ উপজেলায় কমবেশি কলা উৎপাদন হলেও বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহের সাগর কলার আবাদ বেশি হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও ভালো লাভের কারণে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট। এ হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়।
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ ভিন্ন হলেও ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ব্যবহার করা হয়েছে একই ব্যক্তির ছবি। জাল এনআইডি তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
ঘুমন্ত শাশুড়িকে কোপালেন নববধূ, দায় গেল ‘জিনের ঘাড়ে’
চট্টগ্রামে অন্ধকারে ৭০ পরিবার
প্রবাসে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে মারা গেলেন বড় ভাইও