ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সড়ক যেন মরণফাঁদ, ভোগান্তিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ

পাবনা (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ছবি: আরটিভি

সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমড়া আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন পাবনার সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা থানার জনগণের ভোগান্তির সবচেয়ে বড় কারণ। খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তে ভরপুর এই সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন ঘটছে তিন থানার প্রায় ১০ লাখের বেশি জনগণের।

প্রাথমিকে পড়ুয়া স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, দিনমজুর, বিভিন্ন যানবাহনের চালক, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। কৃষিপণ্য সরবরাহ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, জেলা শহরে যাতায়াতে ভোগান্তিসহ দৈনন্দিন কার্যকলাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সড়কটির ভঙ্গুর অবস্থার কারণে। সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা ও দূরত্ব কম হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়িতে অবস্থিত তেলের ডিপোর গাড়ি ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাঁটের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার সবচেয়ে বড় রুট এই আঞ্চলিক সড়ক।

জনভোগান্তি লাঘবে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডির পাবনা অফিস ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

এলজিইডির পাবনা অফিসের তথ্যানুযায়ী ৯০ দশকে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয়েছিল প্রায় ৭ বছর আগে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিন্নাত আলী জিন্নাহ্ ট্রেডার্স। সংস্কারের পর ৪/৫ বছর সড়ক দিয়ে নিরাপদে চলাচল করত জনগণ। তবে সর্বশেষ ২-৩ বছরে খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তের কারণে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি।

কৃষিপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় কেন্দ্র ধুলাউড়ি হাঁট ও কাপড়জাত পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ হাঁট আতাইকুলা হাটে পণ্য সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ সাধারণ জনসাধারণের যাতায়াতের বাহন বোরাক গাড়িও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নিয়মিত। এসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে গাড়ি চলাচলে তীব্র অনীহা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিকরা। যে কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া (সাড়ে ১৫ কিলোমিটার সড়কের ভাড়া ৫০ টাকা), পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।

ডেমড়া ইউনিয়নের পাচুরিয়া বাড়ি এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন কৃষক। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ধুলাউড়ি হাঁট গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় এখন অনেক দূরে অবস্থিত বেড়া চতুর হাঁটে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ বেশি লাগে।

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকোত্তর (ব্যবস্থাপনা) শিক্ষার্থী রিপন হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ডেমড়া। ডেমড়া আতাইকুলা সড়ক দিয়ে পাবনা যাতায়াত করি। বর্তমানে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ডেমড়া আতাইকুলা সড়কের কয়েকজন অটোরিকশাচালক বলেন, এই রাস্তাটি অটোরিকশা চলাচলের অনুপযোগী। আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই, তবে গাড়ির প্রচুর ক্ষতি হয়। আগে দুই মাসে একবার গ্রিজ করতে হতো, এখন মাসে দুইবার গ্রিজ করতে হয়। গাড়ির ডেমারেজ ও গ্যাস খরচ বাদ দিয়ে এখন সংসার ঠিকমতো চলে না।

স্থানীয় সাংবাদিক ইকবাল হুসাইন বলেন, আমার বাড়ি ভূলবাড়িয়া ইউনিয়নাধীন রতনপুরে। সাংবাদিকতার কাজে মাঝেমাঝে ডেমড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহরে যেতে হয়। তখন দেখেছি এই রাস্তার অবস্থা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ডেমড়া-আতাইকুলা সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটির বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই সড়কটির সংস্কার কাজ আসবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হঠাৎ খাটের নিচে ‘হিস হিস’, টর্চ জ্বালাতেই চক্ষু চড়কগাছ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে প্রায় ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হঠাৎ খাটের নিচে ‘হিস হিস’, টর্চ জ্বালাতেই চক্ষু চড়কগাছ
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতিম
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম (১৩)।
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতিম
সুনামগঞ্জে ৩ সন্তানকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানসহ বিষপান করেছেন এক বাবা। বিষক্রিয়ায় মুমূর্ষু বাবা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, মাদক ও জুয়ায় আসক্ত বাবা শরাফত আলী নিজেই সন্তানদেরকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান। তারপর নিজেও বিষপান করেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তিন শিশু ও বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিনের কাছে ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত তিন শিশু হলো, মেয়ে মাওয়া (১০) ও দুই ছেলে তামিম (৭) ও শামিম (২)। তাহিরপুর সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া জানান, ধারণা করা যাচ্ছে ঘটনা রাতে ১টা বা দেড়টার দিকে ঘটেছে। পরে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন সন্তান ও বাবাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায়, শিশু তিনজন হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে। আর বাবা শরাফতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয় রনু মিয়া বলেন, শরাফত মিয়ার স্ত্রী সৌদি আরব প্রবাসী। ঘটনার দিন দিনে তিন শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে যান শরাফত মিয়া। বাড়ি ফেরার পথে সঙ্গে করে বিরিয়ানি নিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা সন্তানদের খাইয়ে নিজেও খান। তিনি আরও জানান, শরাফত জুয়ায় ও মাদকে আসক্ত। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরাফত মিয়া জুয়ায় ও মাদকে আসক্ত। আরটিভি/এসএস
সুনামগঞ্জে ৩ সন্তানকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
মাথাভাঙ্গা নদীতে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
মাথাভাঙ্গা নদীতে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে।
‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’
আরও পড়ুন
‘রাফি নেই, তবে স্মৃতি অমলিন’, সড়কে নিহত যুবকের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ
সড়ক ভেঙে উঠে এসেছে মাটি, তাতে ফলেছে ধান
ভাগ্য ফেরাতে বিদেশে যাওয়া হলো না নিরবের, জীবনে ‘ঘোর অন্ধকার’
বাড়ি ফেরা হলো না, দ্রুতগতির বাস পিষে দিলো শুভঙ্করকে