
সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমড়া আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন পাবনার সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা থানার জনগণের ভোগান্তির সবচেয়ে বড় কারণ। খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তে ভরপুর এই সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন ঘটছে তিন থানার প্রায় ১০ লাখের বেশি জনগণের।
প্রাথমিকে পড়ুয়া স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, দিনমজুর, বিভিন্ন যানবাহনের চালক, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। কৃষিপণ্য সরবরাহ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, জেলা শহরে যাতায়াতে ভোগান্তিসহ দৈনন্দিন কার্যকলাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সড়কটির ভঙ্গুর অবস্থার কারণে। সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা ও দূরত্ব কম হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়িতে অবস্থিত তেলের ডিপোর গাড়ি ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী নাটোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাঁটের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার সবচেয়ে বড় রুট এই আঞ্চলিক সড়ক।
জনভোগান্তি লাঘবে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডির পাবনা অফিস ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।
এলজিইডির পাবনা অফিসের তথ্যানুযায়ী ৯০ দশকে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সর্বশেষ সংস্কার কাজ হয়েছিল প্রায় ৭ বছর আগে। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিন্নাত আলী জিন্নাহ্ ট্রেডার্স। সংস্কারের পর ৪/৫ বছর সড়ক দিয়ে নিরাপদে চলাচল করত জনগণ। তবে সর্বশেষ ২-৩ বছরে খানা-খন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তের কারণে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি।
কৃষিপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় কেন্দ্র ধুলাউড়ি হাঁট ও কাপড়জাত পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ হাঁট আতাইকুলা হাটে পণ্য সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ও অটোরিকশা প্রতিনিয়ত পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ সাধারণ জনসাধারণের যাতায়াতের বাহন বোরাক গাড়িও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নিয়মিত। এসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে গাড়ি চলাচলে তীব্র অনীহা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিকরা। যে কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া (সাড়ে ১৫ কিলোমিটার সড়কের ভাড়া ৫০ টাকা), পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
ডেমড়া ইউনিয়নের পাচুরিয়া বাড়ি এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন কৃষক। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ধুলাউড়ি হাঁট গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে ডেমড়া-আতাইকুলা সড়ক সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় এখন অনেক দূরে অবস্থিত বেড়া চতুর হাঁটে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ বেশি লাগে।
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকোত্তর (ব্যবস্থাপনা) শিক্ষার্থী রিপন হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ডেমড়া। ডেমড়া আতাইকুলা সড়ক দিয়ে পাবনা যাতায়াত করি। বর্তমানে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ডেমড়া আতাইকুলা সড়কের কয়েকজন অটোরিকশাচালক বলেন, এই রাস্তাটি অটোরিকশা চলাচলের অনুপযোগী। আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই, তবে গাড়ির প্রচুর ক্ষতি হয়। আগে দুই মাসে একবার গ্রিজ করতে হতো, এখন মাসে দুইবার গ্রিজ করতে হয়। গাড়ির ডেমারেজ ও গ্যাস খরচ বাদ দিয়ে এখন সংসার ঠিকমতো চলে না।
স্থানীয় সাংবাদিক ইকবাল হুসাইন বলেন, আমার বাড়ি ভূলবাড়িয়া ইউনিয়নাধীন রতনপুরে। সাংবাদিকতার কাজে মাঝেমাঝে ডেমড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহরে যেতে হয়। তখন দেখেছি এই রাস্তার অবস্থা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ডেমড়া-আতাইকুলা সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটির বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই সড়কটির সংস্কার কাজ আসবে।
আরটিভি/এমএইচজে


