
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে।
গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে সংঘটিত দুর্ঘটনায় ১০ জন শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে টেকসই জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA), শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (BSRB)-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এখন আধুনিক যুগ। ঘরে বসেই শিল্প কারখানা ইয়ার্ড ক্যামেরায় দেখা যায়। প্রযুক্তি সুযোগ দিয়েছে, ব্যবহার করুন। সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়, তাই চাইলে মোবাইলে দেখতে পারবেন। তাহলে নিজে দায়মুক্ত থাকবেন। অভিজ্ঞতাকে বেশি বিশ্বাস করবেন না। যিনি কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি সজাগ হোন।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হবে জাহাজভাঙা শিল্পে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম।
আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন (BSBRA)-এর সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও হেলথ, সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (HSE) পেশাজীবী, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডের প্রতিনিধি, পরামর্শক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ২ মিনিটের নীরবতা পালন করেন, এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে একটি কার্যকর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে BSBRA-এর সভাপতি মোহাম্মদ মোহসিন শিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে শিল্পখাতের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়, মো. জুনাইত কাওসার, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে কর্মসূচিতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এর অংশ হিসেবে গত ১৪ আগস্টের দুর্ঘটনার তদন্তে প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান।
এ ছাড়া JICA-এর বিশেষজ্ঞ আকিরা ওকামোতো দুর্ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আবদ্ধ স্থানে (Enclosed Spaces) কাজের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (BSRB) মহাপরিচালক গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নিরাপত্তা সংস্কৃতির উন্নয়নে শিল্প মন্ত্রণালয় ও BSRB-এর প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এ খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার করণীয় ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ জোরদার, নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা, যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার এবং হংকং কনভেনশন ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং রুলস এবং লেবার রুলস অনুযায়ী প্রযোজ্য নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, BSBRA-এর সদস্য, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং BSRB-এর মহাপরিচালক ভবিষ্যতে এ শিল্পে শূন্য ঘটনা ও শূন্য দুর্ঘটনা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যেকোনো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার আগে শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
JICA-এর প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী সৌমিক শরীফ দীপ্ত বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে JICA শিল্প মন্ত্রণালয়, BSRB এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে JICA-এর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এমএইচজে




